দীপাবলির আগেই ৫২৫ ছুঁল দূষণ সূচক, দিল্লিতে সাধারণ মানুষের চোখ খোলা রাখাই দায়

রাত পোহালেই আলোর উৎসব দীপাবলি। কিন্তু তার আগেই ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ার চাদরে ঢেকে গিয়েছে দেশের রাজধানী দিল্লি। সেখানকার বাতাসের মান এমন ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষের চোখ খোলা রাখাই দায় হয়ে পড়েছে। শনিবার সকালে দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৫২৫ ছুঁয়ে এক সর্বকালীন রেকর্ড তৈরি করেছে। পরিস্থিতির গাঢ়ত্ব বুঝে তড়িঘড়ি গোটা দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে জারি করা হয়েছে জরুরি নিয়ন্ত্রণ বিধি ‘GRAP-III’। দীপাবলিতে বাজির ধোঁয়ায় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন পরিবেশকর্মীরা।
একলাফে ৫২৫ ছুঁল দূষণ সূচক আন্তর্জাতিক বায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা AQI.in-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বায়ুর গুণমান সূচক ছিল ৩৬৯। শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮্য-তে। কিন্তু শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বাতাস অস্বাভাবিক মারাত্মক হয়ে ওঠে। সকাল ১০টা বেজে ১ মিনিটে দূষণ সূচক একলাফে পৌঁছে যায় ৫২৫-এ, যা মারাত্মক ও বিপজ্জনক স্তরে পড়ে। বায়ু দূষণের মাত্রা এভাবে রেকর্ড ভাঙতে পারে— সেই পূর্বাভাস আগেই ছিল। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে শুক্রবার গভীর রাতে দিল্লি প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে GRAP-III বিধিনিষেধ কার্যকর করে।
কী এই ‘GRAP-III’ এবং কেন তা চালু হলো?
দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী এনসিআর (NCR) অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত বায়ুদূষণ রুখতে একটি বিশেষ জরুরি চার পর্যায়ের বিধিনিষেধ তৈরি করা হয়েছে, যার নাম ‘গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান’ (GRAP)। বাতাসে দূষণের মাত্রা যেমন বাড়ে, বিধিনিষেধের কড়াকড়িও সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়। সাধারণ নিয়মে বায়ুর গুণমান সূচক (AQI) ৪০১ থেকে ৪৫০-এর ঘরে পৌঁছালে তাকে ‘Severe’ বা ভয়াবহ পর্যায় ধরা হয়। আর এই পরিস্থিতিতেই প্রশাসন GRAP-এর তৃতীয় পর্যায় বা ‘GRAP-III’ লাগু করে।
GRAP-III লাগু হলে কী কী নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়?
-
নির্মাণ ও ভাঙার কাজে কঠোর নিষেধাজ্ঞা: দিল্লি-এনসিআরে আপাতত সমস্ত ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাটি খোড়া, পুরনো বাড়ি ভাঙা, ইটের গাঁথনি, পাইলিং বা রাস্তা তৈরির মতো যে সব কাজে ধুলো ওড়ে, তা পুরোপুরি স্থগিত থাকবে। তবে মেট্রো রেল, হাসপাতাল, জাতীয় সড়ক ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত জরুরি সরকারি প্রকল্পগুলি দূষণবিধি মেনে কাজ চালাতে পারবে।
-
পুরোনো গাড়িতে কড়া নজরদারি: রাস্তায় ধোঁয়া কমানোর লক্ষ্যে BS-III পেট্রোল এবং BS-IV ডিজেল চালিত চার চাকার চার চাকার গাড়ি চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, গাজিয়াবাদ এবং গৌতম বুদ্ধ নগরেও এই নিয়ম কার্যকর থাকবে।
-
ক্রাশার ও খাদান বন্ধ: এনসিআর অঞ্চলের সমস্ত পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিন এবং যে কোনো ধরনের খনন কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস: প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের (পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) স্বাস্থ্যের কথা ভেবে হাইব্রিড মডেলে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, স্কুলগুলি পরিস্থিতি অনুযায়ী অনলাইনে কিংবা সশরীরে ক্লাসের ব্যবস্থা করবে।
-
অফিসে ৫০% ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’: দূষণ ও যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে রাজ্য সরকার চাইলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ (Work From Home) করার নির্দেশ জারির এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।