‘এ সব মমতার পুরোনো ডায়লগ’, অভিষেকের ওপর হামলা ইস্যুতে চরম কটাক্ষ দিলীপের

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের রাতে তাঁর বাড়ির সামনে ঘটে যাওয়া চরম উত্তেজনা এবং ‘প্রাণে মারার চেষ্টা’-র অভিযোগকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবার সকালে কলকাতার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন, “এত বড় নেতার তো ফাইভ স্টার হোটেলে জন্মদিন পালন করা উচিত ছিল, ফুটপাথে কেন?”
কালীঘাটে কী ঘটেছিল শুক্রবার রাতে? শুক্রবার রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উদযাপন করতে তাঁর কালীঘাট রোডের বাড়ির সামনে ভিড় করেছিলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়েই সেখানে বিজেপির কিছু কর্মী-সমর্থক হাজির হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। মুহূতের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই বাড়ি থেকে রাস্তায় নেমে আসেন অভিষেক নিজে।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক মারাত্মক অভিযোগ তোলেন— “আমায় বন্দুক নিয়ে সোজা খুন করতে এসেছিল ওরা। আমাদের সতর্ক কর্মীরা হাতেনাতে দুষ্কৃতীদের ধরে ফেলেছে।”
‘মমতার পুরনো ডায়লগ!’— চাঁচাছোলা দিলীপ অভিষেকের এই ‘খুনের চক্রান্তের’ দাবিকে তীব্র উপহাস করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এগুলো সব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো ডায়লগ! আমাকে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে, আমায় খুন করতে চাইছে— এসব কথা রাজ্যবাসী বহু বছর ধরে শুনে আসছে।”
দিলীপের মতে, রাজনৈতিকভাবে যখন কোনো দলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায় এবং তারা নির্বাচনে হারতে শুরু করে, তখনই সহানুভূতি পাওয়ার জন্য এই ধরণের ইমোশনাল মন্তব্য করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, “জন্মদিনের দিনে ইট-পাটকেল ছোঁড়াছুড়ি কেন হবে? দু’পক্ষের তো উচিত ছিল একে অপরকে মিষ্টি ছুঁড়ে মারা!”
বামেদের ‘বই প্রচার’ নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি এদিন শুধু তৃণমূল নয়, সমান্তরালভাবে বামপন্থীদেরও তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েননি এই দাপুটে বিজেপি নেতা। দুর্গাপূজার সময় সিপিএমের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের প্রতিবাদে বাম সমর্থকরা যে ‘ঘরে ঘরে বই পৌঁছে দেওয়ার’ কর্মসূচি শুরু করেছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে দিলীপ বলেন, “যারা এতদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটাই ধ্বংস করে তুলে দিল, তারা এখন মানুষকে বই পড়ার পরামর্শ দিচ্ছে! এটা তো বছরের সেরা কৌতুক। বামেদের ওই পুরনো বই এখন কে পড়তে যাবে?”