প্যাকেটের সবুজ রঙেই ধোঁকা! দীপাবলিতে পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন বাজি’ কেনার আগে আসল-নকল চেনার সহজ ৫ উপায়

দীপাবলি মানেই আলোর রোশনাই, বাজি ও রঙের উৎসব। তবে আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এখন অনেকেই সাধারণ বাজির বদলে বেছে নিচ্ছেন ‘গ্রিন ক্র্যাকার্স’ বা সবুজ বাজি। কিন্তু বাজারে যেগুলি ‘সবুজ বাজি’ বলে বিক্রি হচ্ছে, সেগুলি কি সত্যিই পরিবেশবান্ধব? নাকি স্রেফ মোড়কের আড়ালে চলছে আসল-নকলের কারচুপি? উৎসবের মৌসুমে ক্রেতাদের মনে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, সবুজ বাজি কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা দেদার নকল বাজি বিক্রি করছে। তাই কেনার আগে আসল গ্রিন বাজি চেনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি।
সবুজ মোড়ক মানেই কি গ্রিন বাজি?
সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো, বাজির বাক্সের ওপর সবুজ রঙের ছবি বা মোড়ক দেখলেই তাকে ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ ধরে নেওয়া। অনেক অসাধু বাজি প্রস্তুতকারক সাধারণ পরিবেশ-দূষণকারী বাজির গ গায়েই কেবল সবুজ রঙের মোড়ক পরিয়ে ক্রেতাদের ধোঁকা দেয়। তাই শুধুমাত্র প্যাকেটের রঙ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
আসল গ্রিন বাজি চেনার সহজ ৫ উপায়:
১. কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করুন:
আসল গ্রিন বাজির বাক্সে সর্বদা একটি সরকারি কিউআর কোড দেওয়া থাকে। স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে সেই কোড স্ক্যান করলেই সরাসরি CSIR-NEERI-এর অফিসিয়াল পোর্টাল খুলে যাবে। সেখানে বাজি প্রস্তুতকারক সংস্থার নাম এবং ব্যবহৃত উপাদানের সঠিক বিবরণ দেখতে পাবেন। কোড স্ক্যান না হলে বা তথ্য না মিললে বুঝবেন সেটি নকল।
২. সরকারি অনুমোদিত সিলমোহর:
প্যাকেটের গায়ে স্পষ্টভাবে CSIR-NEERI এবং PESO (Petroleum and Explosives Safety Organisation)-এর অনুমোদিত লোগো বা সিল রয়েছে কি না, তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন।
৩. উপাদানের স্পষ্ট উল্লেখ:
আসল গ্রিন বাজির প্যাকেটে পরিষ্কার লেখা থাকে যে, এতে বেরিয়াম নাইট্রেটের মতো কোনো অত্যন্ত বিষাক্ত ও ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়নি।
৪. শব্দের মাত্রা (Decibel Level):
গ্রিন বাজি সবসময় কম শব্দ তৈরি করে। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে অনুমোদিত ডেসিবেলের নির্দিষ্ট মাত্রা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা থাকে।
৫. লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনাকাটা:
ফুটপাথের অস্থায়ী হকার বা অপরিচিত উৎসের বদলে সবসময় সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য বাজি বিক্রেতার কাছ থেকেই বাজি কেনা উচিত।
নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের সুরক্ষায় দীপাবলিতে আনন্দ করার পাশাপাশি একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তাই বাজি কেনার সময় বাক্স যাচাই করুন, কিউআর কোড স্ক্যান নিশ্চিত করুন এবং নিরাপদ ও আনন্দদায়ক দীপাবলি উদযাপন করুন।