চিনা টুনি নয়, কেনেন মাটির প্রদীপ! দীপাবলির মুখে রাজ্যবাসীকে বড় বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর

উৎসবের মরসুমে দেশের অর্থ যাতে বিদেশে চলে না যায়, তার জন্য দেশীয় শিল্প ও কারিগরদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দীপাবলি ও কালীপুজোর আগে চিনা বৈদ্যুতিক আলো বা ‘টুনি বাল্ব’ না কিনে স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের তৈরি মাটির প্রদীপ কেনার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “ভোকাল ফর লোকাল” ধারণাকে সামনে এনে কুম্ভকার সম্প্রদায়কে বাঁচিয়ে রাখার জোর বার্তা দেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সবুজ বাজি কিনবেন এবং আনন্দ নিয়ে দীপাবলি পালন করুন। কিন্তু চিনের তৈরি টুনি বাল্ব কেনা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে দেশের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। তার বদলে আমাদের স্থানীয় কুম্ভকারদের কাছ থেকে মাটির প্রদীপ কিনুন। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে মাটির প্রদীপ তৈরি করছেন।” নিজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি গতকাল হুগলিতে গিয়ে ৪০০ টাকা দিয়ে মাটির প্রদীপ কিনেছি। আপনারাও এসব পণ্য কিনুন। আমাদের দেশীয় মৃৎশিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।”
নিউটাউনের উন্নয়ন ও ধর্মীয় স্থান নিয়ে বক্তব্য
মৃৎশিল্পীদের সমর্থনের পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক উন্নয়নমূলক ও ধর্মীয় প্রকল্পের বিষয়েও মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা। নিউটাউনের হরিণালয় (চিড়িয়াখানা) প্রসঙ্গের পাশাপাশি প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, স্থানীয় ভূমিপুত্র ও আদি বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষা করেই সমস্ত উন্নয়ন কাজ করা উচিত।
এর পাশাপাশি ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র ও মন্দির নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের পরিকল্পনার সমালোচনা করে জানান, স্থানীয় জমিদাতাদের মতামত না নিয়ে কিছু করা ঠিক নয়। তবে শিল্পপতি মুকেশ অম্বানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, অম্বানি গোষ্ঠী জমি কিনে তিরুপতি বালাজির মতো এক বিশাল মন্দির তৈরি করতে রাজি হয়েছে, যেখানে আগত দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতিশ্রুত প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।