হোয়াইট হাউসে ভোটে হারের দিন ট্রাম্পের কার কথা মনে পড়েছিল? জানা গেল সেই বিস্ফোরক রহস্য!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কেন্দ্র হোয়াইট হাউসে বসে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী পরাজয়ের খবর পাচ্ছিলেন, তখন কি তাঁর বিশেষ কারও কথা মনে পড়েছিল? মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ও রসিকতা করে দাবি করছে, সেই চরম পরাজয়ের মুহূর্তে ট্রাম্পের মনে হয়তো বারবার মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গাবার্ডের কথাই ভেসে উঠছিল। তুলসীর দেওয়া সেই বিশেষ সতর্কবার্তা ও গোপন তথ্য ট্রাম্প এবং তাঁর দল যদি সময়মতো মেনে চলতেন, তবে হয়তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না এবং রাজনীতির সমীকরণও অন্যরকম হতে পারতো।
ঘটনার সূত্রপাত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। তৎকালীন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন যে, তাঁরা ইরানের সমস্ত সামরিক শক্তি ও পরমাণু অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে—যখন যুদ্ধ মাত্র ২০ দিনে পা দিয়েছিল—নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই দাবি করেছিলেন যে, ইজরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম শোধন বা নতুন কোনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার সক্ষমতা ইরানের আর নেই।
কিন্তু যখন আন্তর্জাতিক ও মার্কিন সাংবাদিকরা নেতানিয়াহুকে প্রশ্ন করেন যে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইজরায়েল ও আমেরিকা অভিযোগ করেছিল যে ইরানের হাতে তৈরি পরমাণু বোমার বিশাল মজুদ রয়েছে, সেই অস্ত্রগুলোর শেষ পর্যন্ত কী হলো? নেতানিয়াহু কৌশলগতভাবে উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বলেন যে, “অস্ত্র খোঁজার কোনো প্রয়োজন নেই; যদি ইউরেনিয়াম শোধন করার ক্ষমতাই ধ্বংস করে দেওয়া যায়, তবে সেই অস্ত্র থাকা না থাকা সমান কথা।”
ঠিক সেই মুহূর্তে আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গাবার্ড ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন। তুলসী ট্রাম্পকে গোপনে একটি ‘পার্সোনাল নোট’ দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, ইজরায়েলের এই দাবির কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ নেই। ইরান ইউরেনিয়াম শোধন করলেও তাদের হাতে ব্যবহারের মতো কোনো পরমাণু বোমা তৈরি থাকার বাস্তবিক প্রমাণ দিতে পারেনি ইজরায়েলি গোয়েন্দারা।
পরবর্তীতে মার্কিন সেনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে তুলসী গাবার্ডকে তীব্র জেরার মুখে পড়তে হয়। সেনেটররা প্রশ্ন করেন যে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের হাতে কটি পরমাণু বোমা অবশিষ্ট ছিল? জবাবে তুলসী স্বীকার করেন যে, হামলায় পরমাণু কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরান এক কণাও ইউরেনিয়াম শোধন করতে পারেনি। সেনেটররা যখন আরও চেপে ধরে জানতে চান যে, ট্রাম্প সরকার কীভাবে পারমাণবিক হুমকির কথা বলে যুদ্ধে নামল, তখন তুলসী অত্যন্ত চতুরতার সাথে জবাব দেন যে, প্রেসিডেন্টের কাছে কেবল গোয়েন্দা সংস্থাই নয়, বরং নানা সূত্র থেকে গোপন তথ্য আসে। তবে তুলসী ট্রাম্পকে আড়ালে সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত প্রয়োজন নেই। নেতানিয়াহুর মনগড়া যুদ্ধের ফাঁদে পা দিয়েই মার্কিন সেনার বিপুল ক্ষতি ও কূটনৈতিক পরাজয় ত্বরান্বিত হয়েছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।