মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বড় ধাক্কা! সুপ্রিম কোর্টে অভিষেকের রক্ষাকবচ চ্যালেঞ্জ করল রাজ্য!

আইনি বিপাক যেন পিছু ছাড়ছে না ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজ্যে সরকার ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে একাধিক মামলায় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া তাঁর আইনি সুরক্ষায় এবার সরাসরি কোপ বসাতে শীর্ষ আদালতের দরজায় কড়া নাড়ল রাজ্য। কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া রক্ষাকবচের নির্দেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। এর ফলে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত হাইকোর্টের দেওয়া সেই স্বস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে আইনি জটে জড়িয়ে পড়লেন তৃণমূলের এই হাই-প্রোফাইল সাংসদ।
মামলার বিবরণ বিশ্লেষণ করলে জানা যায়, চলতি বছরের গত ২৫ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশেষ আইনি রক্ষাকবচ প্রদান করেছিল। আদালতের সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল যে, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি নির্দেশ কার্যকর করা যাবে না। তবে হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তকে প্রথম থেকেই মেনে নিতে চায়নি রাজ্য প্রশাসন। ওই নির্দেশ ঘোষণার পরপরই রাজ্যের তরফে তার ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়ার আবেদন করা হলেও হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয়। ফলস্বরূপ, এবার উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশকে খারিজ করার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে রাজ্য। দীপাবলির ছুটির পর সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত কাজ শুরু হলেই এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা আবেদনে রাজ্য সরকারের আইনি পক্ষ অত্যন্ত কড়া যুক্তি তুলে ধরেছে। রাজ্যের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যেসব ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, সেগুলি অত্যন্ত গুরুতর প্রকৃতির। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী এই ধরনের অভিযোগে আলাদা আইনি প্রতিকার বা আগাম জামিনের আবেদনের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেই স্বাভাবিক পথ না মেনে সাংসদ সরাসরি রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতে গিয়েছেন, যা আইনসম্মত নয়। রাজ্যের আইনজীবীদের স্পষ্ট বক্তব্য, একাধিক এফআইআর-কে এক ছাতার তলায় এনে একটি মাত্র শুনানির মাধ্যমে স্থগিতাদেশ দেওয়া যায় না। প্রতিটি আলাদা এফআইআরের ক্ষেত্রে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া পালন করা উচিত। কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একাধিক মামলায় এভাবে ঢালাও বা ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ দেওয়া আইনগতভাবে অনুচিত।
উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একের পর এক মিথ্যে মামলায় ফাঁসান হচ্ছে অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৬টি পৃথক এফআইআরের তালিকা পেশ করেছিলেন সাংসদ। সেই সব আবেদনের ভিত্তিতেই ভবানীপুর, কালীতলা এবং বিষ্ণুপুর থানায় রুজু হওয়া মামলাগুলিতে তাঁকে আপাতত গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু রাজ্য সরকার স্বয়ং এখন সেই সুরক্ষাবলয় ভেঙে দিতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ায় অভিষেকের রাজনৈতিক ও আইনি ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই সাগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।