ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কালো ধোঁয়ায় ঢাকল দিল্লি! সাকেতের শোরুমে দাউদাউ করে জ্বলল ৬টি গাড়ি, জীবন বাজি রেখে উদ্ধার ১৫!

শুক্রবার বিকেলে চরম আতঙ্ক ও বিপর্যয়ের সাক্ষী থাকল রাজধানী দিল্লির সাকেত এলাকা। সাকেতের ব্যস্ততম সইদুল আজাইব এলাকার একটি সুপরিচিত ও বড়সড় গাড়ির শোরুমে আচমকা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিকেলের ব্যস্ত সময়ে শোরুম থেকে হু-হু করে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে আশপাশের মানুষজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের লেলহান শিখা পুরো বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে থাকা ৬টি মূল্যবান গাড়ি দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শোরুমের দুই কর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং বিল্ডিংয়ের ভেতর থেকে অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করেছেন জরুরি পরিষেবার কর্মীরা।
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর ৩টে ৪৫ মিনিট নাগাদ স্থানীয় প্রশাসন ও দমকল বাহিনীর কাছে প্রথম আগুন লাগার জরুরি ফোন আসে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির শোরুমটি সাকেতের একটি ব্যস্ত মেট্রো স্টেশনের ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় প্রচুর সাধারণ মানুষের যাতায়াত ছিল। আগুন লাগার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ঢেকে যায় আশপাশের আকাশ। ধোঁয়ার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে বহু দূর থেকেও তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। শোরুমের ভেতর থেকে প্রাণ বাঁচানোর জন্য চিৎকার শুরু হলে তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন, পুলিশ বাহিনী, স্থানীয় রাজস্ব দফতর, দিল্লি বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (DDMA), অ্যাম্বুল্যান্স ও ক্যাটস (CATS)-এর কর্মীরা। সাকেতের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট লক্ষ্ম্য সিংহল সংবাদ সংস্থাকে জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। সংলগ্ন ভবনের দেওয়ালে ও শোরুমের ওপরের তলায় বড় বড় মই লাগিয়ে জানলা ভেঙে ভেতরে আটকে থাকা মানুষদের একে একে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়। এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে প্রায় ১৫ জন মানুষকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনে দগ্ধ হওয়া ২ জনকে তড়িঘড়ি নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
দমকল কর্মীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লড়াইয়ের পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুন নেভানোর পরও কোনো মানুষ ভেতরে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে শোরুমের প্রতিটি কোণায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক ও এসডিএম নিজে উপস্থিত থেকে এই উদ্ধারকাজে তদারকি করেন। এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর না থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে এবং শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।