শুধু ঘুমিয়েই পকেটে এল ৯ লক্ষাধিক টাকা! তাক লাগানো এই ইন্টার্নশিপে বাজিমাত করলেন কোন তরুণী?

চাকরি মানেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গাধার খাটুনি, অন্তহীন মিটিং আর ডেডলাইনের ইঁদুরদৌড়। কিন্তু যদি বলা হয়, নিয়ম করে আরামসে ঘুমিয়েই পকেটে পুরে নেওয়া যায় লক্ষ লক্ষ টাকা? শুনতে রূপকথার মতো মনে হলেও বাস্তবে এমন এক আজব ইন্টার্নশিপের সুযোগ করে দিয়েছে প্রখ্যাত স্লিপ সলিউশন ব্র্যান্ড ‘ওয়েকথিট’ (Wakefit)। ঘুমকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার এই অভিনব প্রতিযোগিতায় দেশের দু লক্ষ আবেদনকারীকে পেছনে ফেলে বাজিমাত করেছেন মুম্বইয়ের তরুণী জিনিয়া চট্টোপাধ্যায় (Jiniya Chatterjee)। ওয়েকথিট-এর জনপ্রিয় ‘স্লিপ ইন্টার্নশিপ’-এর পঞ্চম সিজনের ফাইনালে সেরার মুকুট পরে তিনি জিতে নিয়েছেন নগদ ৯.৬ লক্ষ টাকার মোটা অঙ্কের পুরস্কার এবং সংস্থার খরচে বিলাসবহুল ছুটি কাটানোর দারুণ সুযোগ।

কী এই আজব স্লিপ ইন্টার্নশিপ?
সাধারণত ইন্টার্নশিপ বলতে বোঝায় কোনো অফিসে গিয়ে কাজ শেখা বা কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা। কিন্তু ওয়েকথিট-এর এই স্লিপ ইন্টার্নশিপের মূল মন্ত্রই হল—ঘুমাও এবং টাকা কামাও। মূলত আধুনিক মানুষের জীবনে পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব বোঝাতে এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা দিতেই এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। পঞ্চম সিজনের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য সারা দেশ থেকে দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ আবেদন করেছিলেন। বহু ধাপের কড়া বাছাই ও ব্যক্তিগত ইন্টারভিউয়ের পর এই মেগা ইভেন্টের জন্য চূড়ান্তভাবে মাত্র ১০ জন প্রতিযোগীকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

প্রায় ৬০ দিন ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের মূল কাজ ছিল নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন মেনে চলা এবং ঘুমের মান উন্নত করা। স্লিপ ট্র্যাকিং এবং উন্নত স্কোরিং পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁদের প্রতি রাতের ঘুমের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হতো এবং সেই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তৈরি হতো লিডারবোর্ড। তবে শুধু ঘুমানোই নয়, এই ৬০ দিনে প্রতিযোগীদের জন্য অপেক্ষা করছিল একাধিক মজার এবং মাথা খাটিয়ে করার মতো চ্যালেঞ্জ। যেমন—’স্লিপ সিনেমা’ চ্যালেঞ্জে জনপ্রিয় সিনেমার দৃশ্যকে ঘুমের সঙ্গে মিশিয়ে নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলতে হতো। আবার ‘স্লিপ বিঙ্গো’ চ্যালেঞ্জে নিজেদের পুরো এক সপ্তাহের ঘুমের অভ্যাস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে হতো প্রতিযোগীদের।

তবে সবচেয়ে বেশি হইচই ফেলে দিয়েছিল ‘আন্ডারকভার স্লিপ মিশন’ নামের একটি গোপন চ্যালেঞ্জ। এই টাস্কে প্রতিযোগীদের সাধারণ কথোপকথনের মাঝে কাউকে কোনো সন্দেহ না দিয়ে সুকৌশলে ‘ব্ল্যাঙ্কেট’ এবং ‘পিলো’ শব্দ দুটি অন্তত ১০ বার ব্যবহার করতে হতো। প্রতি সপ্তাহেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য সেরা প্রতিযোগীকে ‘প্রো স্লিপার অফ দ্য উইক’ খেতাবে ভূষিত করা হতো। দীর্ঘ দু’মাসের এই লড়াই শেষে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছান সেরা তিন প্রতিজন—রত্নগিরির মানিকন্দন, জিনিয়া চট্টোপাধ্যায় এবং মেহেক খোত। এর সঙ্গে উইকএন্ডের ক্রিয়েটিভ চ্যালেঞ্জে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে ফাইনালে জায়গা করে নেন হায়দরাবাদের করিম খান।

ফাইনাল লড়াইয়ের আসর বসেছিল ‘বিগ বেড’ নামের এক দুর্দান্ত মঞ্চে। যেখানে ‘মেমরি ফোম চ্যালেঞ্জ’-এর মাধ্যমে প্রতিযোগীদের নির্দিষ্ট ছবি দেখে নিখুঁতভাবে বেডরুম সাজাতে হয়েছিল। এরপর আসে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পর্ব—’স্লিপ অকশন’। এই পর্বে বালিশ, কম্বল, ঘরের এসি টেম্পারেচার, আলো এবং ঘরের শব্দ নিয়ন্ত্রণের মতো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পয়েন্ট খরচ করে নিজেদের মনের মতো ঘুমের পরিবেশ তৈরি করতে হয় প্রতিযোগীদের। শেষ রাতের ঘুমের নিখুঁত স্কোর এবং এই সমস্ত টাস্কের ফলাফল বিচার করেই গ্র্যান্ড ফিনালের বিজয়ী হিসেবে মুম্বইয়ের জিনিয়া চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ৯.৬ লক্ষ টাকার বিশাল পুরস্কার মূল্য।

এদিকে পঞ্চম সিজনের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই ষষ্ঠ সিজন নিয়ে উন্মাদনা শুরু হয়ে গিয়েছে। ওয়েকথিট সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের ষষ্ঠ সিজনে অংশ নিতে ইচ্ছুকরা এখন থেকেই সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রি-রেজিস্ট্রেশন বা নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। ঘুমকে পেশা বানিয়ে লাখপতি হওয়ার এই আজব সুযোগ হাতছাড়া করতে তাই এখন থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার তরুণ-তরুণী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *