ধান-সবজি বাদ দিয়ে জমিতে বিদেশি ফুল! আফ্রিকান গাঁদা চাষে কেল্লাফতে মালদার পুরোহিতের, আয় দেখে তাজ্জব সবাই

ঐতিহ্যবাহী ধান, গম কিংবা শাকসবজির গতানুগতিক চাষ ছেড়ে জমিতে এবার বিদেশি প্রজাতির রঙিন ফুলের বিপ্লব! বিকল্প চাষাবাদে নতুন পথ দেখিয়ে গোটা মালদা জেলাজুড়ে ব্যাপক নজর কেড়েছেন এক প্রান্তিক কৃষক। আফ্রিকান প্রজাতি ‘আফ্রিকান মেরিগোল্ড’ (African Marigold) গাঁদা ফুলের সফল চাষ করে কৃষিক্ষেত্রে এক অনন্য সাফল্যের নজির গড়ে তুলেছেন তিনি।

নিজের কোনো ব্যক্তিগত কৃষিজমি না থাকা সত্ত্বেও কেবল অদম্য আগ্রহ ও বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে অন্যের জমি লিজ নিয়ে সারা বছর ধরে চলছে তাঁর এই চোখধাঁধানো ফুল চাষ। তাঁর এই উদ্যোগ কেবল তাঁর নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, বরং জেলার অন্যান্য কৃষকদের কাছেও লাভজনক বিকল্প চাষের এক উজ্জ্বল ও নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

পুরোহিতের হাত ধরে কৃষিতে নতুন জোয়ার

কৃষিক্ষেত্রে নজরকাড়া এই সাফল্যের কারিগর মালদার ইংরেজবাজার ব্লকের দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা পবন বন্দ্যোপাধ্যায়। পেশায় তিনি মূলত একজন কৃষক হলেও পাশাপাশি নিয়মিত পুরোহিতের কাজও করেন। নিজের চাষের জমি না থাকায় বর্তমানে তিনি ৩ বিঘা জমি লিজ (Lease) নিয়ে তিনটি পৃথক ব্লকে ভাগ করে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে আফ্রিকান মেরিগোল্ডসহ বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় প্রজাতির গাঁদা ফুলের ফলন করছেন।

বছরের নির্দিষ্ট সময় পর পর পর্যায়ক্রমে ফুল উৎপাদনের এমন আধুনিক নকশা তিনি তৈরি করেছেন, যাতে বছরের প্রতিটি ঋতুতেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর বাজারে টাটকা ফুল সরবরাহ করা সম্ভব হয়।

মাশরুম থেকে বিদেশি ফুল: যেভাবে এলো সাফল্য

নিজের এই ব্যতিক্রমী সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পবন জানান, আগে তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাশরুম চাষ করতেন। তবে গত প্রায় সাত বছর ধরে তিনি মাশরুম ছেড়ে পুরোদমে এই আফ্রিকান প্রজাতির গাঁদা ফুল চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

বাজার ও দরদাম প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য:

  • ফুলের দামের গ্রাফ: মরশুম ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাজারে ফুলের দাম ওঠা-নামা করে। সাধারণত প্রতি কেজি আফ্রিকান গাঁদা ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত পাইকারি ও খুচরো বাজারে বিক্রি হয়।

  • সেরা মরশুম: চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস থেকে শুরু করে বাঙালির দুর্গাপুজো ও উৎসবের পুরো মরশুমজুড়ে এই ফুলের বাজারে চরম চাহিদা থাকে এবং সবচেয়ে বেশি দাম পাওয়া যায়।

  • শীতকালীন ফলন: শীতকালে উৎপাদন তুলনামূলক অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে দর কিছুটা কম থাকলেও সার্বিক বিক্রির পরিমাণ বজায় থাকে।

বর্তমানে সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক পদ্ধতির কারণে বিঘা প্রতি প্রায় দেড় থেকে দুই কুইন্টাল পর্যন্ত মানসম্মত ফুল উৎপাদন করছেন তিনি। গতানুগতিক ফসলে বারবার ক্ষতির মুখে পড়া কৃষকদের কাছে পবন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আফ্রিকান গাঁদা চাষের মডেল এখন জেলার বিকল্প কৃষির এক নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *