আমেরিকায় পা রেখেই কি ফের দেশের রাজনীতিতে বিস্ফোরণ ঘটাবেন রাহুল? বড় সফরে যাওয়ার আগেই শুরু তীব্র জল্পনা!

ফের একবার হাই-প্রোফাইল বিদেশ সফরে যাচ্ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। আগামী ১৬ থেকে ১৯ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দেশের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে চরম জল্পনা এবং তরজা। বিশেষ করে আমেরিকার দুটি নামী ও মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নির্ধারিত বক্তৃতা এবং রাজনৈতিক মন্তব্য ফের একবার শাসক দল বিজেপির সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ১৭ নভেম্বর নিউইয়র্কের বিখ্যাত কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের মুখোমুখি হবেন রাহুল গান্ধী। এর ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ১৮ নভেম্বর শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিশেষ আলোচনা সভায় তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। সমস্ত কর্মসূচি সেরে আগামী ১৯ নভেম্বরই তাঁর ভারতে ফিরে আসার কথা রয়েছে।
বিদেশ সফর ঘিরে বিজেপির কটাক্ষ ও আক্রমণ
এর আগে ভিয়েতনামের এবং থাইল্যান্ড সফর নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। সেবার রাহুল গান্ধীর বিদেশ ভ্রমণকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়। যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্পেশ্যাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও অন্যান্য ‘ইন্ডিয়া’র (INDIA) দলগুলি আন্দোলন চালাচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই রাহুলের বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিজেপি।
বিজেপি শিবিরের অভিযোগ ছিল, দেশজুড়ে রাজনৈতিক আন্দোলন ফেলে রাহুল গান্ধী ছুটি কাটাতে বিদেশ চলে গেছেন। এমনকী তাঁর বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণের একটি ভিডিও শেয়ার করে তীব্র ব্যঙ্গও করেছিল গেরুয়া শিবির। পরবর্তীতে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে রাহুলের ঘনঘন বিদেশ সফর এবং সেখানে তিনি কাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, তা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান। বিশেষ করে মার্কিন নেতা ইলহান ওমর এবং রোহ খান্নার সঙ্গে রাহুলের বৈঠক নিয়ে অতীতে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
অতীতে মার্কিন মুলুকের কোন কোন মন্তব্য নিয়ে ঝড় উঠেছিল?
রাহুলের এই আমেরিকা সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগেও মার্কিন মাটিতে তাঁর একাধিক মন্তব্য ও বক্তৃতা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল:
-
মে ২০২৩: ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলেতে দাঁড়িয়ে রাহুল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অপব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন।
-
সেপ্টেম্বর ২০২৪: মার্কিন সফরে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং শিখ সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। শিখদের পাগড়ি পরা ও গুরুদ্বারে যাওয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করার অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি।
-
এপ্রিল ২০২৫: বোস্টনের এক অনুষ্ঠানে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ‘কমপ্রোমাইজড’ বা আপসকামী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবারই বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে রাহুলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে শাসক দল। আর এবার কলম্বিয়া ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামী প্রতিষ্ঠানে তাঁর আসন্ন বক্তৃতা ফের একবার জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় ঝড় তুলতে পারে। মার্কিন মুলুক থেকে তিনি দেশের গণতন্ত্র, শাসন ব্যবস্থা বা সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।