জামায়াত প্রীতি নাকি স্বেচ্ছাচারিতা? এনসিপি ছেড়ে সামান্তা শারমিনের বিস্ফোরণে ধসে পড়ার মুখে হেভিওয়েট নেতৃত্ব!

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির (NCP) অন্দরে চরম রাজনৈতিক অসন্তোষ ও ভাঙন এখন প্রকাশ্যে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া, দলে নারী নেতৃত্বকে কোণঠাসা করা এবং কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কমিটি পুনর্গঠনের মারাত্মক অভিযোগ তুলে দল থেকে পদত্যাগ করলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।

তার এই চাঞ্চল্যকর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দলটির ভেতরে জামায়াত প্রীতি ও নেতৃত্ব নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ফের সর্বসমক্ষে চলে এসেছে। এর আগে জাতীয় নির্বাচনের সময় জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের প্রতিবাদে দল ছেড়েছিলেন জনপ্রিয় মুখ ডা. তাসনিম জারা এবং তাজনূভা জাবীনের মতো প্রথম সারির নারী নেতৃত্ব। একের পর এক হেভিওয়েট নেত্রীর এই গণপদত্যাগে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপির স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

কেন এই গণপদত্যাগ? উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর কারণগুলি

১. জামায়াত জোটের নীতিগত বিরোধ: শুরু থেকেই জামায়াতের সঙ্গে কৌশলগত বা নীতিগত কোনো জোটে যাওয়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন সামান্তা শারমিন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, জামায়াতের সঙ্গে হাত মেলালে এনসিপিকে তার নিজস্ব রাজনৈতিক লাইন হারিয়ে সম্পূর্ণ আত্মরক্ষা করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের লেজুড়বৃত্তিতে পরিণত হতে হবে। অতীতে ৩০ জন নেতার স্বাক্ষরে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েও এই জোটের বিরোধিতা করা হয়েছিল। ২. নারীবিরোধী রক্ষণশীল প্রবণতা ও অবমূল্যায়ন: সামান্তা শারমিন তাঁর পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করেছেন যে, দলে শুধু নামেমাত্র নারী রাখাই যথেষ্ট নয়; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ক্ষমতার সমতা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও এনসিপি সেই পথে হাঁটেননি। দলটির সামগ্রিক ভূমিকা এক রক্ষণশীল ও নারীবিরোধী রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে মিলে গেছে। ৩. কাউন্সিল ছাড়াই মনগড়া কমিটি পুনর্গঠন: গত ২৩ অক্টোবর কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক কাউন্সিল বা নির্বাচন ছাড়াই রাতের অন্ধকারে শীর্ষ পদগুলিতে রদবদল করা হয়। আগের কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনকে পদাবনতি করে সাধারণ যুগ্ম আহ্বায়ক করার মতো স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

কী সাফাই দিচ্ছে এনসিপি নেতৃত্ব?

দলের ভেতর থেকে পরপর এমন বিস্ফোরণ ঘটলেও নীতিনির্ধারক মহলের দাবি, রাজনৈতিক কৌশলগত কারণেই জামায়াতের সঙ্গে তাঁদের এই জোট করতে হয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন দাবি করেছেন যে, দলে নতুন মুখ আসা বা পদত্যাগ করা একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

তাঁদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে এই বোঝাপড়া কেবল বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে অন্তর্বর্তীকালীন সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ার ঐক্যের জন্য। পাশাপাশি, পদত্যাগকারী নেত্রীরা দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলেও দাবি করেছে দল। তবে জল্পনা চলছে যে, যেভাবে একের পর এক প্রতিষ্ঠাতা নারী নেতৃত্ব জামায়াত বিরোধিতাকে সামনে রেখে দল ছাড়ছেন, তাতে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে এই তারুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক দল।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *