জুলাইয়ের পর ফের কাজের পরিধি বাড়াল নবান্ন! এক ধাক্কায় রাজ্যজুড়ে লাখ লাখ কর্মীর বেতন কাঠামো পর্যালোচনায় অর্থ দফতর

রাজ্যের সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একাধিক সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মচারীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। রাজ্যের মোট ২৫টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মী এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্ষদ ও সরকারি নিগমের কর্মচারীদেরও এবার সপ্তম বেতন কমিশনের (7th Pay Commission) আওতায় আনা হলো।
বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত দুটি পৃথক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকারের অর্থ দফতর। সরকারি এই পদক্ষেপে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্ষদের কর্মীদের বেতন কাঠামো ও চাকরির শর্তাবলীতে বড় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হলো।
২৫টি মেগা বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মীরা পে কমিশনের আওতায়
রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যের প্রথম সারির প্রায় সমস্ত সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত অশিক্ষক কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামো ও চাকরির অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করবে সপ্তম বেতন কমিশন।
তালিকায় থাকা প্রধান ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো:
-
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
-
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
-
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়
-
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়
-
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
-
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়
-
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
-
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের নিয়মিত অশিক্ষক কর্মীরাও এই পর্যালোচনার আওতায় এসেছেন।
১৪টি উন্নয়ন পর্ষদ ও নিগমে কাজের পরিধি বৃদ্ধি
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজ্যের আরও ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্ষদ ও সরকারি নিগমকে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে—চ্যাংরাবান্ধা, মুকুটমণিপুর, ফুরফুরা শরিফ, তারকেশ্বর, বর্ধমান, তারাপীঠ-রামপুরহাট, গজলডোবা, মেদিনীপুর-খড়্গপুর, জয়গাঁ, গঙ্গাসাগর-বকখালি এবং বক্রেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সংসদ, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম, ওয়াকফ ট্রাইব্যুনাল, রাজ্য খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন উন্নয়ন নিগম এবং আদিবাসী উন্নয়ন সমবায় নিগমের কর্মীদের বেতন পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রস্তুত করবে গঠিত এই পে কমিশন।
সুপারিশ জমা পড়লেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন সংক্রান্ত সংশোধনের উদ্দেশ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। এবার নবান্ন সেই কমিশনের কাজের ব্যাপ্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।
অর্থ দফতরের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতর ও পর্ষদের কর্মীদের বর্তমান চাকরির শর্ত ও বেতন কাঠামো খতিয়ে দেখে যত দ্রুত সম্ভব কমিশনের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এখনই সরাসরি কোনো বেতন বৃদ্ধির সংখ্যা ঘোষণা করা হয়নি; পরবর্তীতে কমিশনের জমা দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই নবান্ন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।