‘কারও সাথে বৈষম্য নয়, ২৫ কোটি মানুষই আমার ভাইপো!’ চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে যোগী আদিত্যনাথের বিরাট ঘোষণা

উত্তরপ্রদেশে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপোষণ ও জালিয়াতি নিয়ে পূর্ববর্তী অখিলেশ যাদব ও মায়াবতীর শাসনকালকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ২০০৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা বহুজন সমাজ পার্টি (BSP) এবং সমাজবাদী পার্টি (SP)-র জামানায় নিয়োগ ক্ষেত্রে চলা চরম অনিয়ম তুলে ধরে তিনি সাফ জানান, বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি যোগ্যতা ও মেধা।
‘পুরো রাজ্যটাই আমার পরিবার’
সম্প্রতি রাজ্যে ৪,৫৪৩ জন নবনিযুক্ত পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টরের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। সেখানে ‘পরিবারবাদ’ বা স্বজনপোষণের অভিযোগ খারিজ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনও নির্দিষ্ট ‘ভাই’ বা ‘ভাইপোবাদ’ চলে না। কারণ উত্তরপ্রদেশের ২৫ কোটি মানুষের সকলকেই আমি আমার নিজের ‘ভাই’ এবং ‘ভাইপো’ বলে মনে করি। তাই কারও সঙ্গে কোনও আলাদা বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নই ওঠে না।”
‘আবেদনকারী একজন, নিয়োগপত্র পেত অন্যজন’
কোনো নির্দিষ্ট দল বা নেতার নাম উল্লেখ না করে পূর্ববর্তী সরকারগুলির তীব্র সমালোচনা করে যোগী দাবি করেন, ২০১৭ সালের আগে রাজ্যে নিয়োগ ব্যবস্থায় চরম দুর্নীতি বিদ্যমান ছিল।
তাঁর কথায়, “২০০৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এমন অগুনতি নিয়োগ হয়েছে, যেখানে পরীক্ষায় বসেছিলেন বা আবেদন করেছিলেন এক ব্যক্তি, কিন্তু অদৃশ্য কারণে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল অন্য কারও হাতে! এই সংক্রান্ত একাধিক দুর্নীতি মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।”
‘অসাধু ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়া উচিত’
আদালত এই ধরনের অবৈধ ও ভুয়া নিয়োগগুলি যেকোনো মুহূর্তে বাতিল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যাঁরা রাজ্যের তরুণ ও যোগ্য যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন, তাঁদের চরম পরিণতির মুখোমুখি হওয়া উচিত। সে সময়ে যে অসাধু চক্র যুবকদের জীবন নষ্ট করেছিল, বিচারে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হব।”
যোগী আদিত্যনাথ আরও যোগ করেন যে, ২০১৭ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পরই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি ও পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়। গত সাড়ে ৯ বছরে তাঁর প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে কেবল পুলিশ বিভাগেই প্রায় ২ লক্ষ ২৬ হাজার আধিকারিক ও কর্মী নিয়োগ করেছে।