অজানা রহস্য লুকিয়ে ৩০০ বছরের প্রাচীন পুঁথিতে! পাঠোদ্ধার করতে গিয়ে কি সত্যিই ঘটেছিল মর্মান্তিক পরিণতি?

কালী প্রতিমার পাশাপাশি আক্ষরিক অর্থেই এক অলৌকিক ও রহস্যময় ৩০০ বছরের প্রাচীন পুঁথি পূজিত হয় পঞ্চমুণ্ডের আসনে! বীরভূমের ইলামবাজারের জয়দেব-কেন্দুলির কাছে অজয় নদের তীরবর্তী সুগড় গ্রামের বক্সি বাড়ির এই কালীপুজোকে ঘিরে যুগ যুগ ধরে সাধারণ মানুষের মনে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ ও ভয়ের আবহ বজায় রয়েছে। কারণ, জনশ্রুতি রয়েছে যে এই প্রাচীন পুঁথিটি খোলার বা পাঠোদ্ধার করার চেষ্টা করলেই নেমে আসে অবধারিত মৃত্যু!

সাধুর দেওয়া রহস্যময় পুঁথি এবং বক্সি বাড়ির ইতিহাস

ঐতিহাসিক জয়দেব অঞ্চলের রাধা-বিনোদ মন্দিরের অদূরে সুগড় গ্রামে অবস্থিত বক্সি বাড়ির এই কালীপুজোর বয়স তিনশো বছরেরও বেশি। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, একসময় অজয় নদের ঘাটে নিয়মিত তপস্যা করতেন এক অজ্ঞাতপরিচয় সন্ন্যাসী। বক্সি পরিবারের পূর্বপুরুষ কানু মোহিনী বক্সি ও যোগেশ্বর বক্সি একই দিনে বিশেষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে নদের তীরে সেই সাধুর কাছে পৌঁছান। এরপর ওই সন্ন্যাসী তাঁদের হাতে একটি প্রাচীন পুঁথি তুলে দিয়ে নির্দেশ দেন যে, এই পুঁথিটি যেন কোনোভাবেই না খোলা হয় এবং একেই কালীরূপে পুজো করা হয়। সেই থেকেই এই পুঁথিকে কেন্দ্র করে সুগড় গ্রামে শুরু হয় বক্সি বাড়ির ঐতিহ্যবাহী কালীপুজো।

পুঁথি খুললেই মৃত্যু? দানা বেঁধেছে রহস্য

পরিবারের সদস্যদের কথায়, বংশপরম্পরায় তাঁরা কঠোরভাবে এই নিয়ম মেনে আসছেন। পরিবারের কেউ কোনোদিনও ওই পুঁথি খোলার সাহস দেখাননি। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে যে, অতীতে কোনো একসময়ে এক ব্যক্তি এই পুঁথির পাঠোদ্ধার করার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন, আর তা খুলতেই তৎক্ষণাৎ নাকি তাঁর মৃত্যু হয়েছিল! তারপর থেকে আর কেউ ভুলেও সেটি খোলার চেষ্টা করেননি।

তবে বর্তমানে বক্সি পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম অর্থাৎ প্রদীপ বক্সি বা সমীরণ বক্সিরা জানিয়েছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে এই প্রাচীন নিয়ম ভাঙতে চান না। তবে যদি কোনো গবেষক বা অভিজ্ঞ ব্যক্তি সদিচ্ছা নিয়ে এই রহস্যময় পুঁথির পাঠোদ্ধার করতে চান এবং এর ভেতরের অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আনতে চান, তবে তাতে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই।

পুজো ও বলিপ্রথার বিশেষত্ব

সুগড় গ্রামের এই কালীপুজো অত্যন্ত জাগ্রত হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে বিশেষ পরিচিত। কালী প্রতিমার গঠনশৈলীও আর পাঁচটা সাধারণ প্রতিমার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার নিয়ম করে এই রহস্যময় পুঁথিটিকে মন্দিরে এনে পুজো করা হয়। পুজোর কটা দিন দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বক্সি পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হন। অজয় নদের তীরবর্তী এই আধ্যাত্মিক অঞ্চলে কবি জয়দেবের স্মৃতিবিজড়িত লোকগাথার পাশাপাশি সুগড় গ্রামের এই রহস্যঘেরা পুঁথি পুজো প্রতি বছরই নতুন করে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মনে প্রবল কৌতূহল জাগিয়ে তোলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *