শরদ পাওয়ারের সঙ্গে গোপনে বৈঠক প্রফুল প্যাটেলের! দুই শিবির এক হতেই কি এনডিএ-র দিকে ঝুঁকছে দল?

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে (Maharashtra Politics) ফের একবার বড়ো কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এনসিপি-এসপি (NCP-SP) প্রধান শরদ পাওয়ার এবং প্রফুল প্যাটেলের সাম্প্রতিক এক হাসপাতালভিত্তিক সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। দীর্ঘ তিন থেকে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় এই দুই হেভিওয়েট নেতার এই ‘সৌজন্যমূলক’ সাক্ষাৎকে স্রেফ আকস্মিক কোনো ঘটনা বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নেপথ্যে বড়ো কোনো রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি বা বার্তা লুকিয়ে রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

দিওয়ালির পরেই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক!
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরদ পাওয়ারকে দেখতে গিয়েছিলেন প্রফুল প্যাটেল। সেই সাক্ষাতের সময় ঠিক হয় যে, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দিওয়ালির ঠিক পরেই দু’জনে একান্তে বসে দীর্ঘ আলোচনা সারবেন। প্রফুল প্যাটেল নিজেই জানিয়েছেন যে, তিনি ১০ নভেম্বর থেকে মুম্বইয়ে থাকবেন এবং শরদ পাওয়ার যখনই সময় দেবেন, তাঁরা একসঙ্গে বসে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন। আর এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা ঘিরেই এখন চাঞ্চল্য তুঙ্গে।

দুই এনসিপি কি ফের এক ছাদের নিচে আসছে?
এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— দিওয়ালির পরের এই বৈঠকে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হবে? সূত্রের খবর, এর কেন্দ্রে রয়েছে ‘দুই এনসিপি-র সম্ভাব্য লীন বা একত্রীকরণ (Merger)’ প্রসঙ্গ। এর আগে প্রয়াত নেতা অজিত পাওয়ারের জীবদ্দশাতেই দুই শিবিরের মধ্যে এ বিষয়ে অন্তত চার দফা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণের পর সেই প্রক্রিয়া কিছুটা ধিম হয়ে গেলেও, বর্তমানে প্রফুল প্যাটেল সহ একাধিক শীর্ষ নেতা চাচ্ছেন যে, মহারাষ্ট্রের স্বার্থে দুই এনসিপি শিবির ফের একজোট হোক।

পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে হওয়া একটি বিশেষ বৈঠকেও এই দুই দলের একত্রীকরণের বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠেছিল বলে খবর। যদিও সেই বৈঠকে সুনীরা পাওয়ার বা পার্থ পাওয়ার উপস্থিত ছিলেন না, তবে অজিত প্যাটেল শিবিরের অন্দরে বর্তমান নেতৃত্ব ও বিশেষ করে পার্থ পাওয়ারের কর্মপদ্ধতি নিয়ে যে দলের প্রবীণ নেতাদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে, তা আর কারোর অজানা নয়।

মোদীজির ফোন কল ও এনডিএ-র সমীকরণ!
এই সমস্ত রাজনৈতিক ঘটনার আবহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শরদ পাওয়ারের টেলিফোনিক কথোপকথন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অসুস্থতার সময় খোদ প্রধানমন্ত্রী ফোন করে পাওয়ারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং সুপ্রিয়া সুলেকে সঙ্গে নিয়ে দেশের রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের জল্পনা, তবে কি এনসিপি-র দুই অংশ এক হয়ে ভবিষ্যতে সরাসরি এনডিএ (NDA)-র কাছাকাছি চলে আসার কোনো ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে? কারণ বিজেপির পক্ষ থেকেও শর্ত রয়েছে যে, দুই এনসিপি এক হলে তবেই তাদের এনডিএ জোটে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, একদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে পাওয়ারের যোগাযোগ, অন্যদিকে প্রফুল প্যাটেলের সঙ্গে বৈঠক এবং তার জেরে এনসিপি শিবিরের অন্দরের ক্ষমতার লড়াই— সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পারদ এখন চড়চড়িয়ে বাড়ছে। এখন সকলের নজর রয়েছে দিওয়ালির পর হতে চলা সেই মেগা মিটিংয়ের দিকে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *