সোমনাথ মন্দিরের ৫০০ মিটারে আমিষ খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ! কড়া বার্তা দিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট

ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরের (Somnath Temple) আশপাশে আমিষ বা নন-ভেজ (Non-Veg) খাবার ও পানীয়ের বিকিকিনির ওপর জেলা প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞাই আপাতত বহাল থাকছে। শুক্রবার এক চাঞ্চল্যকর শুনানিতে গুজরাট হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে হস্তক্ষেপ করতে সরাসরি অস্বীকার করেছে দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “আমাদের একটি ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।” একই সঙ্গে হাইকোর্টকে এই বিষয়ে দ্রুত চূড়ান্ত রায় দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ।
সোমনাথ মন্দিরের চারপাশে আমিষ নিষিদ্ধ কেন?
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি পি বি বারালে-র সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। ফলে সোমনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় আমিষ খাবার বিক্রি বা তৈরির ওপর স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্তটি কার্যকর থাকবে।
উল্লেখ্য, গির সোমনাথ জেলার (Gir Somnath District) জেলা সংগ্রাহক বা কালেক্টর গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছিলেন। সেই বিজ্ঞপ্তিতে সোমনাথ মন্দিরের ৫০০ মিটারের পরিধির মধ্যে কোনো প্রকার আমিষ খাবার রান্না করা, তা বিক্রি করা বা সংরক্ষণ করে রাখার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
কী ঘটেছিল আইনি লড়াইয়ে?
জেলা কালেক্টরের এই নোটিফিকেশনের পর স্থানীয় রেস্তোরাঁ চালক ও আমিষ বিক্রেতারা তীব্র আপত্তি জানান। গত ৩০ অক্টোবর এই নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁরা গুজরাট হাইকোর্টের (Gujarat High Court) দ্বারস্থ হন।
মামলার প্রথম শুনানিতে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি নিশা ঠাকোর সরকারের ওই নোটিফিকেশনটিকে সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই রায়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গুজরাট সরকার তড়িঘড়ি ডিভিশন বেঞ্চে জরুরি আপিল দায়ের করে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মানস রঞ্জন পাঠক ও বিচারপতি নির্জর দেশাইয়ের গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের আদেশের ওপর তৎক্ষণাৎ স্থগিতাদেশ দেন। ফলে সোমনাথ মন্দির এলাকায় আবারও আমিষ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়।
“সব ব্যবসা শেষ হয়ে যাবে!”— সুপ্রিম কোর্টে রেস্তোরাঁ মালিকদের আর্জি
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়েন ক্ষুব্ধ রেস্তোরাঁ মালিকরা।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় ব্যবসায়ীদের পক্ষে আইনজীবী সওয়াল করেন যে, মন্দিরের ৫০০ মিটারের মধ্যে আমিষ খাবার বিক্রি ও রান্নার ওপর পুরো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে তাঁদের ব্যবসা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি এও যুক্তি দেন যে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই কম-বেশি আমিষ খাবার গ্রহণ করেন।
তবে এই আর্জির জবাবে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট মন্তব্য করে জানায়, “আমাদেরকে সব পক্ষের মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আমরা এখন এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলব না।” শীর্ষ আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপে রাজি না হয়ে গুজরাট হাইকোর্টকেই দ্রুত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। আগামী ২৬ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।