রিল বানানোর ভয়ংকর নেশা! খাস কলকাতায় যুবকের গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩

সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস তৈরির নেশা যে কতটা মারাত্মক রূপ নিতে পারে, তার এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক দৃষ্টান্ত দেখল খাস কলকাতা। রিল বানানোর চক্করে এক যুবকের গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। কলকাতার গড়ফা থানার অন্তর্গত হালতু এলাকার এই ঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং দুই নাবালককেও পাকড়াও করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে হালতুর লেনিননগর পুকুরপাড়ের ধারে। গত ২৭ অক্টোবর রাতে কাজ সেরে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন ওই ১৮ বছরের যুবক। সেই সময় পুকুরপাড়ের ধারে আড্ডা দিচ্ছিল অভিযুক্তরা। রাস্তা থেকে ওই যুবককে ডেকে এনে এলাকার একটি সিমেন্টের বেঞ্চে বসানো হয়।
অভিযোগ, প্রথমে ওই যুবককে জোর করে পেট্রল খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর গায়েই পেট্রল ঢেলে দেওয়া হয় এবং দাউদাউ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই নৃশংস ঘটনার পুরো প্রক্রিয়াটিই মোবাইলে ভিডিয়ো বন্দি করা হচ্ছিল— উদ্দেশ্য ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল রিল তৈরি করা। আচমকা এই আক্রমণে কোনোরকমে জ্বলন্ত অবস্থাতেই দৌড়ে পালিয়ে যান ওই যুবক। চরম সাহসিকতার সঙ্গে প্রাণে বাঁচলেও তাঁর শরীরে আগুনে পোড়ার ক্ষতচিহ্ন এখন অত্যন্ত গুরুতর।
আক্রান্ত যুবক নিজেই সেই ভয়াবহ রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, “সেদিন কাজ সেরে ফিরছিলেন। আমাকে ওরা ভালোভাবেই ডাকল। তারপর পুকুরপাড়ে বসিয়ে মদের পেগ বানিয়ে দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পেরে যাই তাতে পেট্রল মেশানো। এরপর হেলমেট পরিয়ে থাপ্পড় মারা হচ্ছিল। পেট্রল গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি ছুটে পালাই।”
কিন্তু কেন এই নৃশংস আক্রমণ? এ প্রসঙ্গে আক্রান্ত যুবক জানান, প্রায় ছ’মাস আগে তাঁর কাছে পাঁচশো টাকা পেত অভিযুক্তরা। সেই টাকা তিনি আগেই মিটিয়ে দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও পুরনো ক্ষোভ এবং প্রতিহিংসার বশে এই অমানবিক কাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
ঘটনার পরই গড়ফা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নেমে পুলিশ অর্ঘ্য সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও দুই নাবালককেও পাকড়াও করা হয়েছে। খাস কলকাতার বুকে এমন রোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।