কাঁচকলা না পাকা কলা—ওজন কমাতে এবং শরীর সুস্থ রাখতে কোনটা খাওয়া বেশি জরুরি? জানুন আসল সত্যিটা

রোজকার ডায়েটে কলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ স্থান রয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে সহজেই পাওয়া যায় বলে এই ফলটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিগুণে ভরপুর। শুধু পাকা কলা নয়, আমাদের রান্নাঘরে কাঁচকলার চাহিদাও কম নয়। কাঁচকলার তরকারি, সুস্বাদু সম্বর বা মুচমুচে চিপস অনেকেরই অত্যন্ত প্রিয়। কিন্তু কাঁচকলা এবং পাকা কলা একই গাছ থেকে পাওয়া গেলেও, মানবদেহে এদের পুষ্টিগুণ ও কার্যকারিতা সম্পূর্ণ আলাদা। স্বাস্থ্যের দিক থেকে কোনটা বেশি উপকারী, ওজন কমাতে কোন কলা খাওয়া উচিত এবং জিম বা ভারী কসরত করলে কোন কলায় উপকার মিলবে—এই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে নিজের ডায়েট চার্ট সঠিকভাবে সাজানো সম্ভব।
স্বাস্থ্যের বিচারে কাঁচকলা ও পাকা কলার নিজস্ব কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কাঁচকলা সাধারণত কাঁচা খাওয়া যায় না, খোসা ছাড়িয়ে সেদ্ধ করে বা রান্না করে খেতে হয়। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রান্না থেকে শুরু করে নানা সুস্বাদু পদে কাঁচকলার ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। পুষ্টি বিজ্ঞান অনুযায়ী, কাঁচকলায় কমপ্লেক্স স্টার্চ এবং ডায়েটারি ফাইবার বা ফাইবারের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকে। এই উপাদানগুলি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে বারবার খিদের প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়। এছাড়া কাঁচকলায় থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে, যা সার্বিকভাবে পেটের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তারা ডায়েটে পরিমিত পরিমাণে কাঁচকলা রাখতে পারেন। তবে তেল-মশলায় ভাজা চিপসের বদলে সেদ্ধ বা কম তেলে রান্না করা পদ খাওয়া শরীরের জন্য অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কাঁচকলার জুড়ি মেলা ভার। কাঁচকলায় স্টার্চ বেশি থাকায় পাকা কলার তুলনায় এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই কম হয়, ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে কাঁচকলা খেলেই ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে; ডায়াবেটিস রোগীদের নিজেদের ব্লাড সুগার লেভেল, সুনির্দিষ্ট ডায়েট এবং শারীরিক পরিশ্রমের কথা মাথায় রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কাঁচকলা খাওয়া উচিত। অন্যদিকে, কাঁচকলা পেকে হলুদ হলে এর ভেতরের স্টার্চ প্রাকৃতিকভাবে চিনিতে রূপান্তরিত হয়, যার ফলে পাকা কলা মিষ্টি হয় এবং তা রান্নার কোনো ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি খাওয়া যায়। পাকা কলায় উপস্থিত প্রাকৃতিক শর্করা শরীরকে ঝটপট শক্তি জোগায়। তাই অ্যাথলেট, খেলোয়াড় কিংবা যারা নিয়মিত জিম বা কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য পাকা কলা অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে ওয়ার্কআউটের পর ইনস্ট্যান্ট এনার্জি ফেরাতে পাকা কলার জুড়ি মেলা ভার। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম, বিভিন্ন ভিটামিন ও ফাইবার থাকে।
যাঁরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন বাড়াতে চান, তাঁরাও ডায়েটে পাকা কলা অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এতে থাকা প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। দুধ, টক দই, বাদাম বা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে পাকা কলা মিশিয়ে খেলে অতিরিক্ত পুষ্টি লাভ করা সম্ভব। তবে শুধু কলা খেলেই ওজন বৃদ্ধি পাবে না, তার জন্য সঠিক ডায়েট ও নিয়মিত শরীরচর্চাও সমানভাবে জরুরি। একইভাবে, ডায়াবেটিস রোগীদের পাকা কলা পুরোপুরি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে ঠিক কতটা পরিমাণ খাচ্ছেন এবং কলাটি কতখানি পেকেছে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার। সংক্ষেপে বলতে গেলে, কাঁচকলা এবং পাকা কলা—উভয়েরই নিজস্ব চমৎকার পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং শরীর ও প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সঠিক কলা বেছে নেওয়াটাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।