ভোররাতে গ্রামের আস্তানায় হানা! বিপুল জিলেটিন-ডিটোনেটর উদ্ধারে তোলপাড় বীরভূম

রাজ্যে বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরকের রমরমা কারবারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (West Bengal STF)। বীরভূমের একটি গ্রামের গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। অন্যদিকে, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় চালিত পৃথক অভিযানে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একাধিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। পরপর এই জোড়া অভিযানে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বীরভূমে ভোরের অভিযানে পাহাড়প্রমাণ বিস্ফোরক
গতকাল ভোররাতে বীরভূমের মুরারই থানার বড়ুয়া গোপালপুর গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালায় এসটিএফ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুষ্কৃতীদের একটি গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা হতবাক হয়ে যান। উদ্ধার হয় ১,১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯টি ডিটোনেটর এবং ১২,০০০ মিটার ডিটোনেটিং কর্ড।

এই বিশাল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত রাখার অভিযোগে পুলিশ মহম্মদ রেজা শেখ ও মুকেশ সিং নামে দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। কিসের উদ্দেশ্যে এবং কোথা থেকে এত বিস্ফোরক আনা হয়েছিল, তার পেছনে বড় কোনো নাশকতার ছক ছিল কি না— সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াডের (ATS) আধিকারিকরা। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

পাণ্ডবেশ্বরে ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত
একদিকে যখন বীরভূমে বিস্ফোরকের পাহাড় মিলল, ঠিক তখনই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকাতেও আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর বড় আঘাত হানল এসটিএফ। গত ৩ ও ৫ নভেম্বর পাণ্ডবেশ্বর থানা এলাকায় পর পর দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে মোট ২১টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৫ রাউন্ড জ্যান্ত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় প্রথমে বেআইনি কয়লা কারবারের সঙ্গে যুক্ত শেখ শাহজাহান নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাকে দফায় দফায় জেরা করে তদন্তের সূত্র ধরে খাইরুল আলম ও মহম্মদ সামশের নামে আরও দুই অভিযুক্তকে জালে তোলে পুলিশ। তাঁদের হেফাজত থেকেই উদ্ধার হয় ১৭টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৭ রাউন্ড কার্তুজ।

একদিকে বীরভূমে ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরকের খনি, আর অন্যদিকে পাণ্ডবেশ্বরে বেআইনি অস্ত্রের সমাহার— এই জোড়া কান্ডে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এসটিএফের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকমুক্ত করতে এই ধরণের আকস্মিক অভিযান আগামী দিনেও সমান তালে চলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *