মাইলেজে বাজিমাত নাকি রয়্যাল এনফিল্ডের গর্জন? হান্টার ৩৫০ ও এক্সএসআর ১৫৫-এর লড়াইয়ে কে সেরা?

রেট্রো ও ক্লাসিক লুকে বাইকের চাহিদা ভারতীয় বাজারে এখন শীর্ষে। এই সেগমেন্টে বাইকপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের তালিকায় রয়েছে ইয়ামাহা এক্সএসআর ১৫৫ (Yamaha XSR 155) এবং রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০ (Royal Enfield Hunter 350)। দেখতে রেট্রো স্টাইলের হলেও দুটি বাইকের ইঞ্জিন ক্ষমতা, রাইডিং কমফোর্ট ও পারফরম্যান্সে রয়েছে বিশাল ফারাক। শহরের যানজটে যাতায়াত বা উইকেন্ড ট্রিপ— আপনার প্রয়োজনের জন্য কোনটি বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, তা এশিয়ানেট নিউজ বাংলার (Asianetnews Bangla) এই বিশেষ প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
RushLane
ইঞ্জিন ও গতি: কে এগিয়ে?
ইয়ামাহা এক্সএসআর ১৫৫-এ রয়েছে ১৫৫ সিসির লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন। এটি ১০,০০০ আরপিএমে ১৮.৪ এইচপি পাওয়ার এবং ৭,৫০০ আরপিএমে ১৪.২ এনএম টর্ক তৈরি করতে পারে। এতে দেওয়া হয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স।
RushLane
অন্যদিকে, রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০-এ রয়েছে ৩৪৯ সিসির এয়ার-অয়েল কুলড ইঞ্জিন। এটি ৬,১০০ আরপিএমে ২০.২ এইচপি পাওয়ার ও ৪,০০০ আরপিএমে ২৭ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। এতে রয়েছে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স। হান্টার ৩৫০ অধিক টর্ক প্রদান করলেও গতির লড়াইয়ে বাজিমাত করে ইয়ামাহা। ০ থেকে ১০০ কিমি প্রতি ঘণ্টার গতি তুলতে এক্সএসআর ১৫৫ সময় নেয় মাত্র ১১.৬৬ সেকেন্ড, যেখানে হান্টারের সময় লাগে ১৫.১৫ সেকেন্ড।
মাইলেজে বড় লিড ইয়ামাহার
দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাইলেজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এই জায়গাতেই প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিয়েছে ইয়ামাহা এক্সএসআর ১৫৫। টেস্ট রাইড অনুযায়ী, এক্সএসআর ১৫৫ শহরে লিটারে প্রায় ৫০.৩ কিমি এবং হাইওয়েতে ৫১.৭ কিমি পর্যন্ত মাইলেজ দেয়।
এর বিপরীতে, ভারী ইঞ্জিনের হান্টার ৩৫০ শহরের রাস্তায় ৩০.৬ কিমি এবং হাইওয়েতে ৩৯.৮ কিমি মাইলেজ দিতে সক্ষম। ফলস্বরূপ, মাইলেজের দিক থেকে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রয়েছে ইয়ামাহার বাইকটি (যদিও চালক ও রাস্তার ধরনের ওপর ভিত্তি করে মাইলেজে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে)।
ওজন ও সিটের উচ্চতা: চালানো সহজ কোনটি?
দুটি বাইকের ওজনের পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। ইয়ামাহা এক্সএসআর ১৫৫-এর কার্ব ওয়েট মাত্র ১৩৭ কেজি। অন্যদিকে, হান্টার ৩৫০-এর ওজন ১৮১ কেজি। অর্থাৎ, হান্টারের তুলনায় ইয়ামাহা প্রায় ৪৪ কেজি হালকা। ফলে শহরের ট্রাফিকে এক্সএসআর ১৫৫ সামলানো অনেক সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক।
তবে সিটের উচ্চতার দিক থেকে হান্টার ৩৫০ কিছুটা সুবিধাজনক। হান্টারের সিট হাইট ৭৯০ মিমি, যা কম উচ্চতার রাইডারদের জন্য বেশ আরামদায়ক। অপরদিকে, এক্সএসআর ১৫৫-এর সিট হাইট ৮১০ মিমি এবং এর সিটিং পজিশন কিছুটা স্পোর্টি। হান্টারে একদম সোজা হয়ে বসার সুবিধা মেলে।
আধুনিক ফিচার ও সাসপেনশন
ফিচারের দিক থেকে ইয়ামাহা এক্সএসআর ১৫৫ আধুনিক প্রযুক্তিতে ঠাসা। এতে ফুল ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, ভিভিএ (VVA) প্রযুক্তি এবং অল-এলইডি লাইটিং রয়েছে।
হান্টার ৩৫০-এ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ক্লাসিক লুককে। এতে রয়েছে ডিজিটাল-অ্যানালগ ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, ডুয়াল চ্যানেল এবিএস এবং স্লিপ অ্যান্ড অ্যাসিস্ট ক্লাচ। রাইডাররা চাইলে ট্রিপার নেভিগেশন ভ্যারিয়েন্ট বেছে নিতে পারেন। তবে সাসপেনশনের দিক থেকে হান্টার ৩৫০ খারাপ রাস্তায় দারুণ আরাম দেয়, যেখানে এক্সএসআর ১৫৫-এর সাসপেনশন সামান্য শক্ত হওয়ায় খানাখন্দে ভরা রাস্তায় একটানা চালানো কিছুটা কষ্টের হতে পারে।
দাম ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
ভারতীয় বাজারে ইয়ামাহা এক্সএসআর ১৫৫-এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ১.৫০ লাখ টাকা থেকে। অন্যদিকে, ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০-এর দাম ১.৩৮ লাখ থেকে ১.৭১ লাখ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে।
কার জন্য কোনটি সেরা?
যদি আপনার প্রাথমিক পছন্দ হয় দুর্দান্ত গতি, উচ্চ মাইলেজ, কম ওজন এবং আধুনিক টেক-ফিচার, তবে ইয়ামাহা এক্সএসআর ১৫৫ হবে সেরা বিকল্প। আর আপনি যদি রয়্যাল এনফিল্ডের সিগনেচার সাউন্ড, বেশি টর্ক, কম সিট হাইট এবং লং ড্রাইভে আরামদায়ক রাইডিং পছন্দ করেন, তবে হান্টার ৩৫০ হতে পারে আপনার আদর্শ সঙ্গী।