বাম জমানার শিল্প-বিতর্কে দিলীপের চরম তোপ! জ্যোতি বসুকে নিয়ে বিমানের মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গস্পর্শী জল্পনা

বাম আমলের জমি ও শিল্পনীতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হওয়া তরজা এবার এক নতুন মাত্রা নিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নয়, বরং জমি নীতি সংক্রান্ত যদি কোনও ‘ভুল’ হয়ে থাকে, তবে তা ঘটেছে জ্যোতি বসুর আমলেই—বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে চরম কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাম আমলের জমি নীতির সমালোচনার পর বিমান বসুর এই ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা এবং জ্যোতি বসুকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো নিয়ে সরব হয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়কার শিল্পনীতি নিয়ে বিমান বসুর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘জ্যোতি বসু কি পার্টির বাইরে ছিলেন? তিনি পার্টির ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বাকি সবাই সব কিছু ভোগ করেছেন, দীর্ঘদিন সরকার পরিচালিত হয়েছে। অথচ যখন দলের সিদ্ধান্তগুলি একের পর এক অনপপুলার বা অপ্রিয় হয়ে উঠল, তখন সমস্ত দোষ তাঁর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে অন্য একজনকে পদে বসানো হলো। যাই হোক, ইতিহাস তো ইতিহাসই। অতীতের পুরনো বিতর্ক নিয়ে আমরা আর মাথা ঘামাতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই। রাজ্যে ইতিমধ্যেই নতুন আধুনিক শিল্পনীতি এসে গিয়েছে, সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ এগোতে চাইছে এবং আগামী দিনে জোরকদমে শিল্পায়ন হবে।’’
এর পাশাপাশি রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ এবং কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানান দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে কারখানা বা শিল্পের গেটে কোনও ধরনের গুন্ডামি বা তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্য তুলে ধরে দিলীপ ঘোষ জোর দিয়ে বলেন, ‘‘বছরের পর বছর ধরে বাংলায় যেভাবে কাজের পরিবেশ ও ওয়ার্ক কালচার নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তা আর একেবারেই চলতে দেওয়া যায় না। সামান্য বিষয়ে স্লোগান তুলে তুলে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার সংস্কৃতি শেষ হতে হবে। হাজার হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে কারখানার গেটের বাইরে বা ভেতরে মাস্তানি করার দিন এখন চিরতরে শেষ। বর্তমান সরকার এক নতুন ও বাস্তবমুখী শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে, যার হাত ধরে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আসবে।’’
একই সঙ্গে সিঙ্গুরের বিতর্কিত ও পড়ে থাকা জমি নিয়ে রাজ্যের নতুন ভাবনার কথা জানান পঞ্চায়েত মন্ত্রী। সিঙ্গুরে নতুন করে শিল্প স্থাপন করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত সচেষ্ট বলে দাবি করেন তিনি। সিঙ্গুরের বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘ডানকুনি থেকে শুরু করে জাতীয় সড়ক বা হাইওয়ে বরাবর বহু শিল্পসংস্থা ও ব্যক্তি জমি কিনে রেখেছেন এই আশায় যে সেখানে বড় শিল্প গড়ে উঠবে। সেখানে প্রায় দুই হাজার একরের বিশাল এলাকা পড়ে রয়েছে। টাটারা চলে যাওয়ার পর এত বছর ধরে সেই জমিগুলি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে; সেখানে না হচ্ছে চাষবাস, না গড়ে উঠছে কোনও কারখানা। হাজার কোটি টাকার এত মূল্যবান সম্পত্তি দিনের পর দিন এভাবে ফেলে রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়, তা রাজ্যের উন্নতির স্বার্থে ব্যবহারে লাগা উচিত। সেই কারণেই রাজ্য সরকার উদ্যোগী হয়েছে যাতে টাটা বা অন্য কোনও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীকে সেখানে আনা যায়। অন্য কোনও আন্তর্জাতিক কোম্পানি বা বড় ইন্ডাস্ট্রি এলে সিঙ্গুরে নতুন করে কর্মসংস্থানের জোয়ার আসবে এবং সেই লক্ষ্যেই সরকারের তরফ থেকে পুরোদমে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’’