কুলিক ফরেস্টে ১৩ বছরের নাবালিকার পচাগলা বিবস্ত্র দেহ! গা ছমছমে ঘটনায় রাতেই থানায় তোলপাড়

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে এক ১৩ বছরের নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ঘিরে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নিজের সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি ওই কিশোরী। পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করার পর সন্ধান চালানো হলেও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুলিক ফরেস্টের ধারে পচা দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জঙ্গলে উঁকি দিলে দেখতে পান নাবালিকার পচাগলা বিবস্ত্র দেহ। শরীর থেকে চামড়া খসে পড়া ও পোকা ভনভন করার সেই হাড়হিম করা দৃশ্য দেখে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রায়গঞ্জ পুলিশ তদন্তে নেমে উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা শুরু করে। মাঝরাতেই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের আধিকারিকের উপস্থিতিতে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশের ছয়টি বিশেষ টিম শহরের নানা প্রান্তের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। অনুসন্ধানে নেমে রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ আব্দুল ঘাটা বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা, কারণ সেই বাঁধের ঠিক এক কিলোমিটার দূরেই কুলিক ফরেস্টের গভীর অংশ থেকে উদ্ধার হয়েছিল দেহটি।
তদন্তে বড় মোড় আসে রাত দু’টো নাগাদ, যখন রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড় সংলগ্ন চোরাই মালপত্রের কারবার চলে এমন একটি এলাকা থেকে নিখোঁজ নাবালিকার সাইকেলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ও সাইকেল উদ্ধারের স্থানের সংযোগসূত্র মেলাতে সক্ষম হয়েছেন তদন্তকারীরা। নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে খুন করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এলেই। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারির দাবিতে ফুঁসছে রায়গঞ্জের নাগরিক সমাজ।