হাড়কাঁপানো বরফে ঢেকে গেল ট্রেকিংয়ের আনন্দ! উত্তরাখণ্ডে কেদারতাল ট্রেকে ভয়াবহ বিপর্যয়, ৬ ট্রেকারের মৃতদেহ উদ্ধার

উত্তরাখণ্ডের কেদারতাল ট্রেকে গিয়ে চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে প্রাণ হারালেন ছয়জন ট্রেকার। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে গঙ্গোত্রী থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন ১৩ জনের একটি পর্বতারোহী দল। কিন্তু হঠাৎ করেই পাহাড়ের আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং ভারী তুষারপাতের কারণে নিখোঁজ হয়ে যান দলের অধিকাংশ সদস্য। টানা কয়েকদিন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), উত্তরাখণ্ড বন বিভাগ এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের যৌথ তল্লাশি অভিযানের পর কেদারতাল ও তার সংলগ্ন দুর্গম এলাকা থেকে ছয়জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ট্রেকারদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম শোকের মাতম।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ৬টি দেহের মধ্যে ইতিমধ্যেই চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, মৃত চারজনের মধ্যে দুজন পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বাসিন্দা এবং অপর দুজন উত্তরপ্রদেশের দুই বোন। শনাক্ত হওয়া মৃত ব্যক্তিরা হলেন বাঁকুড়ার শালবনির বাসিন্দা রিন্টু মণ্ডল এবং উদয় ঘোষ। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের লখনউ শহরের বাসিন্দা দুই বোন বর্তিকা বর্মা এবং দীপিকা বর্মাও এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ হওয়া ১৩ জনের এই দলটিতে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজন মহিলা পর্যটক, উত্তরপ্রদেশের দুজন মহিলা এবং একজন স্থানীয় গাইড সহ রাঁধুনি ও কুলিরা ছিলেন। প্রাথমিক তল্লাশিতে দলের পাঁচজন সদস্যকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও বাকিদের উদ্ধারে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে নামানো হয় উদ্ধারকারী দলকে।
উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, গত ২৭ তারিখে গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল দলটি। মূল ট্রেকারদের পাশাপাশি তাঁদের সাহায্য করার জন্য ছিলেন একজন অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড, দুজন রাঁধুনি এবং তিনজন কুলি। যাত্রা শুরুর পরের দিন অর্থাৎ ২৮ তারিখে দলের একজন রাঁধুনি অসুস্থতা ও অন্যান্য কারণে ফেরত চলে আসেন। বাকি ১২ জন সদস্য বিপজ্জনক পাহাড় পথ ধরে আরও উপরের দিকে এগোতে থাকেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৯ তারিখ তাঁদের সুনিশ্চিতভাবে বেস ক্যাম্পে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও ট্রেকাররা ফিরে না আসায় আতঙ্ক ছড়ায়। এরপর ৩০ তারিখে সংশ্লিষ্ট ট্রেকিং এজেন্সির তরফে সরকারিভাবে জানানো হয় যে, আচমকা আবহাওয়ার বিপজ্জনক রদবদল ও পাহাড়ে বরফধসের কারণে ১৩ জনের দলটি পথ হারিয়ে আটকে পড়েছে।
খবর পাওয়া মাত্রই উত্তরাখণ্ড রাজ্য প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। তবে হিমশীতল বরফাবৃত পাহাড়, ঘন কুয়াশা এবং ক্রমাগত তুষারপাতের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে অবশেষে ধ্বংসস্তূপ ও বরফের নিচ থেকে ৬টি দেহ বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে বাঁকুড়ার যুবকদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছিলেন যে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভারী তুষারপাতের কবলে পড়ে ট্রেকারদের নিখোঁজ হওয়ার খবর অত্যন্ত চিন্তাজনক। পাহাড়ি পথ থেকে বাকি নিখোঁজ সদস্যদের খুঁজে বের করতে এখনো জোরকদমে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন।