হিমঘরে পচছে ২৭ লক্ষ টন আলু! দাম পড়তে না দিয়ে কুইন্টালে সোজা ৫০ টাকা ভর্তুকি, চাষিদের জন্য মেগা উপহার মুখ্যমন্ত্রীর

হিমঘরগুলিতে এখনও মজুত রয়েছে প্রায় ২৭ লক্ষ মেট্রিক টন আলু। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সেই আলু বাজারজাত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আলু বাজারে চলে এলে অতিরিক্ত জোগান বা দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়েছিল চাষিদের। সেই চরম উদ্বেগ কাটাতে এবং আলুচাষিদের পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে একগুচ্ছ আর্থিক সহায়তার বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরশুড়ার বিদ্যাসাগর ভবন মাঠে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠান থেকেই কৃষকদের জন্য এই বিরাট প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেন তিনি।
ভিনরাজ্যে আলু পরিবহনে কুইন্টাল প্রতি ৫০ টাকা ভর্তুকি
হিমঘরে জমে থাকা ২৭ লক্ষ মেট্রিক টন আলু দ্রুত বাজারে নামাতে এবং ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর পথ সুগম করতে বড় পদক্ষেপ করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন—
-
রেল বা সড়কপথে ভিনরাজ্যে আলু পাঠালে কুইন্টাল পিছু ৫০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা (পরিবহন ভর্তুকি) দেবে রাজ্য সরকার।
-
এর ফলে ঝাড়খণ্ড, বিহার, অসম ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে কম খরচে আলু পাঠানো সম্ভব হবে।
-
পাশাপাশি স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আলুবোঝাই কোনো গাড়িকে আর রাজ্যের সীমানায় আটকানো যাবে না।
দাম পড়লে ক্ষতিপূরণ ও ফসলের বিমা সম্পূর্ণ ফ্রি
বাজারে আলুর দাম তলানিতে ঠেকলে যাতে চাষিদের সর্বস্বান্ত হতে না হয়, তার জন্যও বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, কুইন্টাল প্রতি আলুর দাম ১,১২০ টাকার নিচে নেমে গেলে সেই ঘাটতির জেরে হওয়া লোকসানের টাকা চাষিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মিটিয়ে দেবে রাজ্য।
সবচেয়ে বড় কথা, আলু চাষকে এবার প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (Pradhan Mantri Fasal Bima Yojana)-র আওতায় আনার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আলু বিমার জন্য চাষিদের আর কোনো প্রিমিয়াম দিতে হবে না; কৃষকদের হয়ে সেই পুরো প্রিমিয়ামের টাকা রাজ্য সরকার নিজেই পরিশোধ করবে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অন্য কোনো কারণে ফসল নষ্ট হলে চাষিরা সরাসরি এর সুফল পাবেন।
পরিকাঠামো উন্নয়ন ও অন্যান্য বড় ঘোষণা
কৃষকদের বাণিজ্যিক স্বাধীনতা বাড়াতে এবং পরিকাঠামো উন্নত করতে বেশ কিছু দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন:
-
মার্কেট ইয়ার্ড ও কোল্ড রুম: কৃষিপণ্য নিয়ন্ত্রণ ও বিপণন আইনের আওতায় প্রতিটি হিমঘরকে ‘মার্কেট ইয়ার্ড’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এছাড়া রাজ্যে ২০০টি সৌরশক্তিচালিত মিনি কোল্ড রুম এবং স্মার্ট মান্ডি প্রকল্পের আওতায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০টি আদর্শ মান্ডি তৈরি করা হবে।
-
বিদ্যুতের বিলে বড় ছাড়: আলু উৎপাদনকারী এলাকার (যেমন মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম, পুরশুড়া, আরামবাগ, ধনেখালি, হরিপাল ইত্যাদি) প্রায় চার লক্ষ কৃষককে কৃষি কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে দুই টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যার জেরে বার্ষিক খরচ অনেকটাই কমেছে।
-
ধানচাষিদের জন্য অতিরিক্ত বোনাস: শুধু আলু নয়, আমন ধান বিক্রির ক্ষেত্রে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি কুইন্টাল পিছু অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে বোনাস দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা সরাসরি পাঁচ একর পর্যন্ত জমি থাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে।
সার্বিকভাবে আলু ও ধানচাষিদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে সরকারের এই মেগা প্যাকেজ বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিমহলে এক নতুন আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে।