শুষ্ক মরশুমে ইচ্ছাকৃত নাশকতার ছক? কালিম্পংয়ের জঙ্গল পুড়ছে লেলিহান শিখায়, বনদফতরের তৎপরতায় বাড়ছে চাঞ্চল্য!

কালিম্পং জেলার চালতা ফরেস্টে (Chalta Forest) লাগাতার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সমগ্র জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জঙ্গলের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় একের পর এক ছোট-বড় গাছ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পরিবেশপ্রেমীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এমনিতেই বর্তমান সময়টি অত্যন্ত শুষ্ক মরশুম, তার ওপর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উত্তুরে হাওয়ার দাপট। বাতাসের বেগের কারণেই আগুন অতি দ্রুত জঙ্গল জুড়ে ভয়ংকরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চালতার জঙ্গলে আগুন লাগার নেপথ্যে কি নাশকতার ছক?
স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, চালতা ফরেস্ট এলাকার শুকনো কাশিয়ার গাছে কেউ বা কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ওই শুকনো অংশ থেকেই আগুন মুহূর্তের মধ্যে বৃহত্তর জঙ্গলে দাবানলের রূপ নেয়। যদিও ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে বনদফতর এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কিছু নিশ্চিত করতে পারেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জোরকদমে কাজ শুরু করেছে বনদফতরের বিশেষ দল।
কেন বাড়ছে চরম আশঙ্কা?
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক আশঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে:
-
পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি: সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, জঙ্গলের ঠিক পাশেই রয়েছে জনবসতিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা। আগুনের শিখা যদি কোনোভাবে পাহাড়ের মূল জঙ্গলে গ্রাস করে, তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
-
বন্যপ্রাণীদের জীবনহানি ও লোকালয়ে হানার ভয়: চালতা ফরেস্টে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান বন্যপ্রাণী ও পশুপাখির বসবাস রয়েছে। আকস্মিক এই দাবানলের জেরে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনই প্রাণ বাঁচাতে তাদের লোকালয়ে ছুটে আসার তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি ও কঠোর ব্যবস্থার দাবি
এই মর্মান্তিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে পরিবেশপ্রেমী মহল তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও বনদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে, এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে—তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে চিহ্নিত করার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি তুলেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। প্রকৃতি, জঙ্গল এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় এখনই প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।