বকেয়া ভাড়ার জেরে চরম নাটক! খোদ রোগীর পরিবারকে ভেতরে রেখেই বাড়ির দখল নিতে হাজির মালিক, উত্তেজনা তুঙ্গে

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা তখন যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, আর ঠিক সেই অবস্থাতেই বেপরোয়াভাবে নার্সিংহোমের তালা কেটে প্রতিষ্ঠানটি জবরদখল করার চেষ্টার অভিযোগ উঠল খোদ বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল (Ghatal) পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুশপাতা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যায় ঘাটাল থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিবদমান দুই পক্ষকেই থানায় তলব করা হয়েছে।

কী ঘটেছিল কুশপাতার নার্সিংহোমে?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুশপাতা এলাকায় ‘রাজদীপ সেবাকেন্দ্র’ নামের একটি বেসরকারি নার্সিংহোম দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। অভিযোগ, আচমকাই বেশ কয়েকজন লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে হাজির হন ওই বাড়ির মালিক দীপা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিয়মের তোয়াক্কা না করে তিনি সোজা নার্সিংহোমের মূল গেটের তালা কেটে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং জোর করে সেটির দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, সেই মুহূর্তেও নার্সিংহোমের অন্দরে একাধিক রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। রোগী ভর্তি থাকা অবস্থায় এমন কাণ্ড ঘটায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগীর পরিবার ও স্থানীয় মহলে।

বাড়িভাড়া বকেয়া বনাম জোরপূর্বক দখলের লড়াই

পুরো ঘটনাটির জেরে বাড়িওয়ালা ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পালটা অভিযোগ ও যুক্তির লড়াই শুরু হয়েছে।

  • বাড়ির মালিকের সাফাই: বাড়িটির মালিক দীপা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ১২ বছরের একটি চুক্তির ভিত্তিতে জয়ন্ত চক্রবর্তীকে নার্সিংহোম পরিচালনার জন্য এই বাড়িটি লিজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত বেশ কয়েক মাস ধরে নাকি নিয়মিত বাড়িভাড়া মেটানো হচ্ছিল না। বকেয়া ভাড়ার টাকার জন্যই তিনি বাধ্য হয়ে নিজের সম্পত্তির দখল নিতে সেখানে গিয়েছিলেন।

  • নার্সিংহোম পক্ষের অবস্থান: অন্যদিকে, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের তরফে উপস্থিত ছিলেন লিজ হোল্ডার জয়ন্ত চক্রবর্তীর পুত্রবধূ জবা বর্মন চক্রবর্তী। ভাড়ার চুক্তি ও আইনি জটিলতার কথা থাকলেও, এভাবে গায়ের জোরে তালা কেটে ভিতরে ঢোকার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রশাসনের ভূমিকা ও স্থানীয়দের উদ্বেগ

আইনজীবীদের মতে, বাড়িভাড়া বকেয়া থাকলে বা চুক্তি সংক্রান্ত কোনো বিবাদ দেখা দিলে তার সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট আইনি পথ বা আদালত রয়েছে। কিন্তু তা না করে রোগী ভর্তি থাকা একটি সংবেদনশীল চিকিৎসাকেন্দ্রে চড়াও হয়ে তালা কাটার মতো পদক্ষেপ কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসাধীন রোগীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবা সম্পূর্ণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘাটাল থানার পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও বাড়ির মালিক—উভয় পক্ষকেই থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন রোগীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে নজর রেখে আপাতত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *