৩০০০ কিমি হেঁটে সোজা রাহুল গান্ধীর দরবারে! যুব কংগ্রেস কর্মীর অবিশ্বাস্য কান্ডে শোরগোল পড়ে গেল জাতীয় রাজনীতিতে

প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটারের বন্ধুর পথ। শত বাধা-বিপত্তি ও ক্লান্তি উড়িয়ে দিয়েও নিজের লক্ষ্য থেকে এক ইঞ্চিও সরেননি তিনি। হাতে দেশের জাতীয় পতাকা আর মনে একটাই অদম্য জেদ—প্রিয় নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে মুখোমুখি দেখা করতেই হবে। সমস্ত প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দীর্ঘ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে পায়ে হেঁটে হুগলি (Hooghly) থেকে সরাসরি রাজধানী দিল্লি পৌঁছে অবশেষে সেই ঐতিহাসিক স্বপ্ন পূরণ করলেন বাংলার এক যুব কংগ্রেস কর্মী।
৩১ মে শুরু হয়েছিল অদম্য পদযাত্রা
খবর অনুযায়ী, গত ৩১ মে হুগলি জেলা যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি দেবাশিস তাঁর এই মেগা পদযাত্রা শুরু করেছিলেন। যাত্রা শুরুর আগে কামাখ্যা দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে তিনি একা পায়ে হাঁটা শুরু করেন। এরপর বাংলা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানার মতো একাধিক রাজ্য পেরিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তিনি দিল্লির মাটিতে পা রাখেন।
দেবাশিসের এই সুদীর্ঘ পদযাত্রার নেপথ্যে ছিল রাজনৈতিক বিশ্বাসের পাশাপাশি প্রিয় নেতার প্রতি চরম ভক্তি ও শ্রদ্ধা। রাহুল গান্ধী দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) সরকার গঠন করবে—এই দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই তিনি ৩ হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হাঁটার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। গত ২৮ অক্টোবর দিল্লিতে পৌঁছে নিজের এই ঐতিহাসিক পদযাত্রা শেষ করেন তিনি। তবে দিল্লি পৌঁছলেও তাঁর মূল লক্ষ্য অর্থাৎ রাহুলের সঙ্গে দেখা করার অধ্যায়টি বাকি ছিল।
অবশেষে কাটল অপেক্ষা, পূরণ হলো স্বপ্ন
অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত সেই ক্ষণটি আসে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর)। দিল্লির সরকারি বাসভবনে কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার সুযোগ পান দেবাশিস। দীর্ঘ দিনের শারীরিক পরিশ্রম, পায়ে ফোস্কা পড়া ক্লান্তি আর মনের কোণে লালন করা স্বপ্ন—সব যেন এক নিমেষে সার্থক হয়ে ওঠে। এক তরুণ রাজনৈতিক কর্মীর এমন আবেগ, নিষ্ঠা এবং অদম্য সংকল্পের গল্প এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে কংগ্রেসের অন্দরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় কর্মসূচি নয়, সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগ ও বিশ্বাসের জোরে তিন হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার এই চাঞ্চল্যকর কাহিনি এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে।