হাজার হাজার জিলেটিন স্টিক আর ডেটোনেটর! ভোরের আলো ফুটতেই বীরভূমে হানা দিয়ে এ কী উদ্ধার করল STF?

ভোরের আলো ফুটতেই একের পর এক গোপন ডেরায় সাঁড়াশি অভিযান। আর তাতেই উদ্ধার হলো মাটির নিচে ও গোপন গুদামে মজুত করে রাখা পাহাড়প্রমাণ তাজা বিস্ফোরক! বৃহস্পতিবার ভোরে বীরভূমের মুরারই থানার বারোয়া গোপালপুর গ্রামে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) স্পেশাল টিমের ঝটিকা অভিযানে সামনে এসেছে এই শিহরণ জাগানো তথ্য। বড়সড় নাশকতার আশঙ্কা থেকে এই মেগা অপারেশন চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
ঘটনার স্থান থেকে ইতিমধ্যেই দু’জন সক্রিয় দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন রাজগ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ রেজা শেখ ওরফে গুডা এবং অন্যজন সিউড়ির তিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুকেশ সিং।
হাজার হাজার জিলেটিন স্টিক আর ডেটোনেটর!
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে মুরারইয়ের বারোয়া গোপালপুর গ্রামের একাধিক সন্দেহজনক আস্তানায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে একযোগে উদ্ধার করা হয়েছে—
-
১১৫০টি তাজা জিলেটিন স্টিক
-
৯৮৯টি ডেটোনেটর
-
১২ হাজার মিটার দীর্ঘ ডেটোনেটিং কর্ড
বিপুল পরিমাণ এই হাই-ইনটেনসিটি বিস্ফোরক ঠিক কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কেন সীমানা পেরিয়ে বীরভূমে মজুত করা হচ্ছিল এবং এর নেপথ্যে কোনো বড় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা নাশকতামূলক চক্রান্ত জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে এসটিএফ-এর অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)।
আসানসোল-দুর্গাপুরে পৃথক মেগা অপারেশন: উদ্ধার ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র
অন্যদিকে, বেআইনি অস্ত্র পাচার ও কয়লা মাফিয়াদের নেটওয়ার্ক ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পৃথক অভিযানে নেমেছে এসটিএফ। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত পাণ্ডবেশ্বর ও জামুড়িয়া এলাকায় পরপর অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ২১টি তাজা আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৫ রাউন্ড কার্তুজ। জামুড়িয়া থানার মামলায় পুলিশি জালে ধরা পড়েছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী ও বেআইনি কয়লা কারবারে অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে—
-
৬টি লম্বা মাস্কেট
-
৪টি সেভেন এমএম (7mm) পিস্তল
-
১১টি দেশি পাইপগান
-
৬৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ (৮ এমএম এবং ৭.৬৫ এমএম)
উল্লেখ্য, এই একই অস্ত্র পাচার চক্রের তদন্তে নেমে এর আগেই খাইরুল আলম ও মহম্মদ শামসের নামে দুই অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছিল এসটিএফ। তাদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে উদ্ধার হয় আরও ১৭টি অস্ত্র। সব মিলিয়ে কেবল এই একটি মামলাতেই এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১২২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।
বীরভূমের বিস্ফোরক ভাণ্ডার এবং শিল্পাঞ্চলের অস্ত্র কারখানার উৎস কোথায়, তা জানতে দুই ধৃতকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করছে লালবাজার ও রাজ্য এসটিএফ-এর শীর্ষ আধিকারিকেরা। রাজ্য জুড়ে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।