দলবদলের খাঁড়ায় ঝুলেই রইল ১০ বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ! সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে হাড়হিম কাণ্ড বাংলায়

 

দলের অন্দরে বিদ্রোহ এবং বিধায়ক পদ খারিজের খাড়া ঝুলছে ১০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের মাথার ওপর। রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলা এই দলবদল মামলার ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে এবার বড়সড় মোড় নিল আইনি লড়াই। বিদ্রোহী বিধায়কদের অযোগ্যতা সংক্রান্ত মামলার শুনানির আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়ে তা পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টে ফিরিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ফলে ছুটির মোবাইল স্ক্রিন থেকে আদালতের অন্দরে এখন নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।

সুপ্রিম কোর্ট থেকে কেন ফিরল মামলা?

বিধানসভার স্পিকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিদ্রোহী বিধায়কদের দলবদল ও তাঁদের সদস্যপদ খারিজের আর্জি নিয়ে শীর্ষ আদালতের স্পেশাল বেঞ্চে শুনানি চলছিল।

তবে সমস্ত সওয়াল-জবাব শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে এই মামলার সরাসরি শুনানির এক্তিয়ার সর্বোচ্চ আদালত নেবে না। পরিবর্তে সম্পূর্ণ মামলাটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দীর্ঘ ছুটির অবকাশ শেষ হওয়ার ঠিক পরেই এই মামলার জরুরি শুনানির জন্য হাইকোর্টের একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করতে হবে। সেখানেই নতুন করে নির্ধারিত হবে ওই ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

“হাইকোর্টেই লড়াই লড়ব”—হুঙ্কার শোভনদেবের

শীর্ষ আদালতের এই রায়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া থামছে না। আদালতের নির্দেশ সামনে আসতেই আত্মবিশ্বাসী সুরে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইনি লড়াইয়ে তাঁরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চেই তাঁরা এই অনৈতিক দলবদল এবং স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে জোরদার সওয়াল করবেন।

একদিকে আইনি ছুটির মরশুম, আর অন্যদিকে ছুটির কাটলেই হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে শুরু হতে চলা এই মেগা আইনি যুদ্ধ—সব মিলিয়ে ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের ভাগ্য এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে। রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর এখন পুরোপুরি আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *