ঘুমে আচ্ছন্ন নিঝুম রাতে ভেঙে পড়ল আস্ত পাহাড়! ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে করুণ পরিণতি, অশ্রুসজল ওড়িশা

যেখানে কয়েক দিন আগেও ছিল নিশ্চিন্ত আশ্রয় আর সাজানো সংসার—আজ সেখানে শুধুই খাঁ খাঁ করা কাদা, উপড়ে পড়া গাছ আর বিশালাকার পাথরের স্তূপ! এক রাতের বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মানচিত্র থেকেই যেন কার্যত মুছে গেল একটি আস্ত গ্রাম। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের (Cyclone Arnab) প্রভাবে টানা মুষলধারে বৃষ্টি এবং তার জেরে নেমে আসা ভয়াল ধসে (Odisha Landslide) মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে ওড়িশার গিডিপাবালি গ্রাম। ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবন্ত চাপা পড়েছেন বহু মানুষ। দুর্ঘটনার বেশ কিছু দিন পেরিয়ে গেলেও ১০ জন গ্রামবাসীর এখনও কোনো হদিস মেলেনি। স্বজনের শেষ মুখটুকু দেখার সুযোগটুকুও মিলল না; বাধ্য হয়ে প্রিয়জনের ফিরব না ধরে নিয়ে প্রতীকী শেষকৃত্যের (Symbolic Last Rites) বিষাদময় প্রস্তুতি নিচ্ছেন অসহায় পরিবারের সদস্যরা।
গভীর রাতে পাহাড়ি মৃত্যুর তাণ্ডব
ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ অক্টোবর গভীর রাতে। রাত তখন আনুমানিক ৩টে। নিঝুম অন্ধকারের মাঝে সমগ্র গিডিপাবালি গ্রাম যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই আচমকা বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে পাশেই থাকা পাহাড়ের বিশালাকার একটি অংশ। মুহূর্তের মধ্যে টন কে টন মাটি, বিশালাকার পাথর এবং উপড়ে আসা গাছের গুঁড়ির নিচে চাপা পড়ে যায় একের পর এক বসতবাড়ি। কিছু বাসিন্দা কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে খোলা আকাশের নিচে বেরিয়ে আসতে পারলেও, বহু পরিবার সেই সুযোগটুকুও পায়নি।
উদ্ধারকাজে বাধা ৩০ ফুট উঁচু ধ্বংসস্তূপ
বিপর্যয়ের পরপরই উদ্ধারকাজে নামানো হয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), ওড়িশা রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (ODRAF), দমকল এবং একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থাকে। নিখোঁজদের সন্ধানে নামানো হয় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্নিফার ডগ, অত্যাধুনিক রাডার, সার্চ লাইট ও ভারী মাটি কাটার যন্ত্র।
-
উদ্ধারের চিত্র: তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত রবি মালিক (৫২) এবং সলমন প্রধান (২৯) নামের দুই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
-
বাধার প্রাচীর: প্রায় ৩০ ফুট উঁচু কাদার স্তূপ, কয়েক টন ওজনের পাথর এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
-
স্থগিত উদ্ধারকাজ: নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা ও ৪ এবং ৫ নভেম্বর মারাত্মক খারাপ আবহাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় প্রশাসনকে।
নিখোঁজ থাকা ১০ জন মানুষ যে ৩০ ফুট মাটির নিচে আর জীবিত নেই, তা একপ্রকার নিশ্চিত। কিন্তু পাথর ও মাটির স্তূপ সরিয়ে লাশটুকুও বের করা সম্ভব না হওয়ায়, হিন্দু ধর্মীয় রীতি মেনে কুশপুতুল বা প্রতীকী দেহ বানিয়েই প্রিয়জনদের শেষবিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কান্নায় ভেঙে পড়া গ্রামবাসীরা। এ যেন প্রকৃতির এক নির্মম ও করুণ পরিহাস!