“ছোট শহর থেকে ৩০-৪০ বছরের যুবকরাও আসছে!” চিকিৎসকদের এই সতর্কবার্তায় কেঁপে উঠবে আপনার বুক

ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কাঁপিয়ে দিয়ে সামনে এল এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান। সাম্প্রতিক এক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ১ জন নাগরিকের ৭৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের নতুন অনুমান বলছে, সারা দেশে বছরে প্রায় ১৬ লক্ষ নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে এই বার্ষিক নতুন রোগীর সংখ্যা পৌঁছে যেতে পারে প্রায় ২৮ লাখে।
কম বয়সেও বাড়ছে থাবা, ছোট শহরও নিরাপদ নয়
বিশিষ্ট অনকোলজিস্ট বা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার আক্রান্তদের বয়স সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে এক বিরাট ও আশঙ্কাজনক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতদিন যেখানে এই রোগটি মূলত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যেত, বর্তমানে আকছার ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি তরুণরাও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের দরজায় কড়া নাড়ছেন।
তামাক ও মদ্যপানের মাত্রাতিরিক্ত সেবন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভাব এবং মারাত্মক পরিবেশ দূষণের মতো কারণগুলি ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি হু হু করে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, এই রোগটি এখন আর কেবল বড় বড় মেট্রো শহরের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ছোট শহর ও মফস্বল এলাকা থেকেও ব্যাপকহারে ক্যান্সার রোগী সামনে আসছে।
দেরিতে রোগ ধরা পড়াই কাল হচ্ছে
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীরা হাসপাতালে আসেন যখন ক্যান্সার একেবারে তৃতীয় বা চতুর্থ স্টেজে পৌঁছে যায়। এই অবস্থায় চিকিৎসাপদ্ধতি অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়ায় এবং খরচও বহু গুণ বেড়ে যায়। শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক গাঁঠ, সহজে না সারানো ঘা, কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের ওজন দ্রুত কমে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক রক্তপাতের মতো লক্ষণগুলিকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না করে এক ডাক্তার থেকে অন্য ডাক্তারের কাছে ঘুরতে গিয়ে বহু মূল্যবান সময় নষ্ট করেন রোগীরা, যা পরবর্তীকালে মারণ রূপ নেয়।
মহিলাদের স্ক্রিনিং ও পুরুষদের অনীহা
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পুরুষদের মধ্যে অনেকেই রোগ বা লক্ষণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে চান না এবং মারাত্মক উপসর্গ দেখা না দেওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে অনীহা দেখান। তামাক-মদ্যপানের পাশাপাশি মূত্র বা যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সামাজিক ছুৎমার্গও এর একটি বড় কারণ।
অন্যদিকে, মহিলাদের ক্ষেত্রেও সচেতনতার অভাব প্রকট। জরায়ু মুখের ক্যান্সার (Cervical Cancer) প্রতিরোধে এইচপিভি (HPV) ভ্যাকসিন এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি হলেও বহু নারীই প্যাপ স্মিয়ার বা এইচপিভি টেস্ট করাতে চান না। স্তনে কোনো রকম গাঁঠ বা অস্বাভাবিক ডিসচার্জের মতো লক্ষণ দেখা দিলেও তা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা পরে মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
উচ্চ খরচ আর দূরে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার যন্ত্রণা
রোগ ধরা পড়ার পরেও সাধারণ মানুষের দুর্দশার শেষ থাকে না। ভারতে ক্যান্সার চিকিৎসার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও রেডিয়েশন থেরাপির মতো উন্নত ব্যবস্থাগুলি মূলত বড় বড় শহরের বড় হাসপাতালেই কেন্দ্রীভূত। এর ফলে ছোট শহর বা গ্রামের দরিদ্র রোগীদের কেমোথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।
চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালের কাছাকাছি থাকা, কাজ থেকে দীর্ঘ ছুটি নেওয়া এবং যাতায়াতের বিপুল খরচ বহন করতে গিয়ে দেশের বহু মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি অর্থাভাবের কারণে অনেকেই মাঝপথে চিকিৎসাও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন, যা এই স্বাস্থ্য সংকটকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।