অফিসারের আত্মহত্যার পেছনেও কি ঘুষের চাপ? বড়সড় দুর্নীতির মুখে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার, কেঁপে উঠল দেশ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে দেশজুড়ে। কেরালায় গণপূর্ত বিভাগের (PWD) সচিব পদে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে ভিজিল্যান্স তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে কেরালা সরকার।

কেরালার মন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা জানিয়েছেন, রাজ্যের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (VACB)-কে দিয়ে এই তদন্ত চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর এবং আইনি পরামর্শ পাওয়ার পরেই এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।

কী ছিল সেই ২ কোটি টাকার ঘুষের অভিযোগ?

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে সজ্জন কুমার নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ, কেরালায় পূর্ত বিভাগের সচিব থাকাকালীন তিরুবনন্তপুরম থেকে আঙ্গামালি পর্যন্ত ‘প্রধান কেন্দ্রীয় সড়ক’ প্রকল্পের বিল মেটানোর বিনিময়ে ২ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। প্রকল্পটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছিল এবং এতে ‘পাটি-বেল’ (PATI-BEL) নামক মালয়েশিয়া ও কেরালার একটি যৌথ সংস্থা নিয়োজিত ছিল। অভিযোগ, ঘুষ না দেওয়ায় কোটি কোটি টাকার বিল আটকে রাখা হয়।

অফিসারের আত্মহত্যা ও রহস্যময় সুইসাইড নোট:

এই দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে গেছে একটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাও। পাটি-বেল কনসোর্টিয়ামের অন্তর্ভুক্ত একটি মালয়েশীয় কোম্পানির প্রকল্প কর্মকর্তা লি সি বিন সেসময় আত্মহত্যা করেন। অভিযোগ ওঠে, সরকারের তরফ থেকে বিপুল টাকার বিল বকেয়া রাখায় তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছিল ওই কোম্পানি। মৃত অফিসারের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, লি সি বিন তাঁর আত্মহত্যার নোটে তৎকালীন পূর্ত সচিব জ্ঞানেশ কুমারের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে গিয়েছিলেন।

দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৭এ ধারায় আইনি ছাড়পত্র:

আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ধরনের বড় অভিযোগের তদন্ত শুরু করতে হলে সরকার ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন (Section 17A of Prevention of Corruption Act) প্রয়োজন হয়। ভিজিল্যান্স বিভাগ আইনি মতামত নেওয়ার পর অনুমোদন চাইলে, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারের নীতি নির্ধারণকারী বেঞ্চ এই পূর্ণাঙ্গ তদন্তভার তুলে দেয় ভিএসিবি-র হাতে।

ভিজিল্যান্স ব্যুরো এখন অভিযোগপত্রে উল্লিখিত সমস্ত নথি ও তথ্যাদি খতিয়ে দেখে বিশদ তদন্ত শুরু করবে, যা আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক বিরাট ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *