‘শেষ ১০ বছর তৃণমূল শুধু গুছিয়েছে, আগ্রহ কমে গিয়েছিল আমার’: দল ও দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মুখ খুললেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী

তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেও শাসক দলের অন্দরের নানা বিতর্ক এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব হওয়ার ধারা কিছুতেই থামছে না। আর এবার রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল ও তাদের দীর্ঘ ১৫ বছরের জমানার ভূমিকা নিয়ে একেবারে সরাসরি বোমা ফাটালেন প্রবীণ অভিনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি ও টলিপাড়ায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।

টলিউডের জনপ্রিয় এই অভিনেতা একসময়ে তৃণমূলের টিকিটে পরপর তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। দল যখন ক্ষমতায় ছিল, সেই কালেও একাধিকবার দলের কিছু কাজকর্ম নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে এবার দল ক্ষমতা হারানোর পর আরও একধাপ এগিয়ে সরাসরি দুর্নীতি ও দল পরিচালনার কড়া সমালোচনা করলেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চিরঞ্জিৎ বলেন, টানা ১৫ বছর বিধায়ক হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে সাধারণ মানুষ সব সময় উন্নয়ন চায় এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত। কিন্তু আক্ষেপের সুরে তিনি জানান, যে কোনো সরকারই সাধারণত ৫ বছর পর থেকে নিম্নমুখী হতে শুরু করে এবং নিজেদের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ঠিক যেমনটা তৃণমূল কংগ্রেস করেছে। অভিনেতার কথায়, ‘‘শেষ ১০ বছর ধরে ওরা শুধু নিজেদের গুছিয়েছে। সেই কারণেই দল ও রাজনীতি থেকে আমার আগ্রহ একেবারে কমে গিয়েছিল। আমি আগেই বলেছিলাম আমি আর থাকব না, দল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম।’’

তবে শুধু দল ছাড়া নিয়েই নয়, দলের এই করুণ পরিণতি নিয়ে নিজের গভীর হতাশার কথাও প্রকাশ করেছেন চিরঞ্জিৎ। তিনি যোগ করেন, ‘‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আমি যখন দল ছেড়ে পিছন ফিরে তাকালাম, তখন দেখলাম পুরো বাড়িটাই ভেঙে পড়ে গিয়েছে। সরকার তো গেলই, কিন্তু আমি সত্যি ভাবিনি যে গোটা দলটাই এভাবে ভ্যানিশ হয়ে যাবে!’’

উল্লেখ্য, সারদা-রোজভ্যালি থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গরু ও কয়লা পাচার—বিগত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় বারবার দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ উঠেছে। অবশেষে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার ভোটাররা সেই সরকারকে সরিয়ে দিয়েছে। এমনকি দল ক্ষমতা হারানোর পর লোকসভায় তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের এনসিপিআই (NCPI)-তে মিশে যাওয়া নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করতে দেখা গেছে চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীকে। প্রবীণ এই অভিনেতা ও রাজনৈতিক নেতার এমন খোলামেলা মূল্যায়ন যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *