নিট-পিজি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিরাট ধাক্কা! ২০২৭ থেকে আসছে সম্পূর্ণ নতুন নিয়ম, জানলে চমকে যাবেন!

দেশের চিকিৎসা শিক্ষায় এবং স্নাতকোত্তর (Postgraduate) মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির গোটা প্রক্রিয়াটাই বদলে যেতে চলেছে। ২০২৭ সাল থেকেই নিট-পিজি (NEET PG) এবং নিট-এসএস (NEET SS) পরীক্ষায় বড়সড় পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের গঠিত বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি। পার্সেন্টাইল ভিত্তিক যোগ্যতার পুরনো নিয়ম সরিয়ে এবার সম্পূর্ণভাবে ‘র‍্যাঙ্ক ভিত্তিক’ (Rank-based) ভর্তি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনও (NMC)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই এই প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে।

কেন এই আমূল পরিবর্তন? উঠছে কোন প্রশ্ন?

বর্তমানে নিট-পিজি ও সুপার স্পেশালিটি কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে পার্সেন্টাইলের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। সাধারণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া (EWS) প্রার্থীদের জন্য ৫০তম পার্সেন্টাইল এবং সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য ৪০তম পার্সেন্টাইল প্রয়োজন হয়।

কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় যখন বিপুল সংখ্যক স্নাতকোত্তর আসন ফাঁকা থেকে যায়। সেই খালি আসনগুলো পূরণের জন্য অতীতে বারবার কাটঅফ পার্সেন্টাইল নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। যেমন, ২০২৫-২৬ সেশনে সাধারণ শ্রেণির কাটঅফ ৫০তম পার্সেন্টাইল থেকে এক ধাক্কায় নামিয়ে একেবারে ৭ম পার্সেন্টাইলে নামিয়ে আনা হয়েছিল! আর এই কারণেই চিকিৎসকদের শিক্ষাগত মান এবং যোগ্যতার স্বচ্ছতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

র‍্যাঙ্ক ভিত্তিক ব্যবস্থায় কী কী সুবিধা মিলবে?

বিশেষজ্ঞ কমিটির মতে, বারবার কাটঅফ কমিয়ে আসন পূরণের এই সংস্কৃতি বন্ধ করতেই র‍্যাঙ্ক ভিত্তিক ব্যবস্থার প্রস্তাব আনা হয়েছে। এর ফলে:

  • স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা: প্রার্থীদের স্কোরকার্ডে পার্সেন্টাইলের বদলে সরাসরি তাঁদের অর্জিত র‍্যাঙ্ক দেখানো হবে। ফলে কাউন্সেলিংয়ের সময় প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকবেন এবং বিভ্রান্তি কমবে।

  • কাটঅফ কমানোর প্রয়োজন নেই: শুধু আসন ফাঁকা রাখার ভয়ে ন্যূনতম যোগ্যতার মান আর নিচে নামাতে হবে না। মেধার ভিত্তিতেই নিখুঁতভাবে আসন বণ্টন করা সম্ভব হবে।

  • সুপার স্পেশালিটিতেও বদল: শুধু নিট-পিজি নয়, নিট-এসএস (NEET SS) বা সুপার স্পেশালিটি কোর্সের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হতে চলেছে। এছাড়া নন-ক্লিনিক্যাল কোর্সের ফি কমানো এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সার্ভিস বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।

কবে থেকে কার্যকর হবে এই নিয়ম?

জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবগুলিতে নীতিগত সমোহর দিয়েছে। খুব শীঘ্রই এর খসড়া নিয়মাবলী প্রকাশ করে সমস্ত স্টেকহোল্ডার বা সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের ভর্তি চক্র থেকেই এই নতুন নিয়ম পাকাপাকিভাবে কার্যকর করা হবে।

যদিও একাংশের আশঙ্কা, পার্সেন্টাইল প্রথা উঠে গেলে অপেক্ষাকৃত কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে চিকিৎসাবিদ্যার মান অক্ষুণ্ণ রেখে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত কাউন্সিলিং প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই এই নতুন সংস্কারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *