“২০২৭-এ ভোটে লড়বই না, যোধা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই শপথ নেব!” বারানসীতে অখিলেশের বিরাট ধামাকা

উত্তরপ্রদেশের ২০২৭ সালের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের অনেক আগেই রাজ্য রাজনীতিতে এক বিরাট ভূকম্পন তৈরি করলেন সমাজবাদী পার্টির (SP) জাতীয় সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। মঙ্গলবার ধর্মীয় নগরী বারাণসীতে দাঁড়িয়ে তিনি এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করেন। অখিলেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজে কোনো আসন থেকে প্রার্থী হিসেবে লড়বেন না, বরং নির্বাচন শেষে সরাসরি লোকসভা সাংসদ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই শপথ গ্রহণ করবেন!

“লড়াই না করলেই আমি মুখ্যমন্ত্রী হই!” বারাণসীতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকরা অখিলেশকে প্রশ্ন করেন—তিনি কি ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কাশীর (বারাণসী) কোনো আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন?

এর উত্তরে আত্মবিশ্বাসী অখিলেশ মুচকি হেসে জানান, “আমি যখন ভোটে নিজে লড়ি না, ঠিক তখনই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হই! তাই যা আমার জন্য শুভ ও শুভফলদায়ী, আমি সেটাই করব। ২০২৭ সালে আমি নির্বাচনে না দাঁড়িয়েই সরাসরি লোকসভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে গিয়ে বসবে সমাজবাদী পার্টি।”

নিজের এই কৌশলের যুক্তি তুলে ধরে ২০১২ সালের কথা মনে করিয়ে দেন এসপি প্রধান। তিনি স্মরণ করান, ২০১২ সালে যখন তিনি প্রথমবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন, তখনও তিনি কোনো বিধানসভা নির্বাচনে লড়েননি। সেই সময়ে তিনি কনৌজ লোকসভার সাংসদ ছিলেন এবং পরবর্তীতে বিধান পরিষদের (MLC) সদস্য হয়ে সফলভাবে সরকার পরিচালনা করেছিলেন।

“বিজেপির ২০০ জন বিধায়কের টিকিট কাটা যাবে!” সাংবাদিক সম্মেলন থেকে বর্তমান যোগী আদিত্যনাথ সরকার ও বিজেপিকে তুলোধোনা করেন অখিলেশ। বিজেপি নেতৃত্বের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে তিনি এক বিস্ফোরক দাবি পেশ করেন, “২০২৭ সালের নির্বাচনে বর্তমান বিজেপি বিধায়কদের প্রতি তীব্র জনরোষ ঠেকাতে বিজেপি তাদের ২০০ জন বর্তমান বিধায়কের টিকিট বাতিল করার নীল নকশা তৈরি করেছে।”

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চরম কটাক্ষ করে অখিলেশ বলেন, “যাঁকে একসময় ‘মা গঙ্গা’ ডেকেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল, আজ তিনি নিজেই মা গঙ্গাকে সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছেন।”

মণিকর্ণিকা ঘাট, ডাল মান্ডি ও মেট্রোর মাস্টারপ্ল্যান: বারাণসীতে ঐতিহ্যের সংঘাত নিয়ে রাজ্য সরকারকে নিশানা করে অখিলেশ অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার ঐতিহাসিক মণিকর্ণিকা ঘাটের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ডাল মান্ডি এলাকার বাস্তুচ্যুত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের উচ্ছেদের জ্বলন্ত বিষয়টি ২০২৭-এর নির্বাচনে বড় ইস্যু হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অখিলেশ আরও বলেন, “বিজেপি সরকার হলো রাজ্যের সমস্ত অরাজকতার আসল মূল। এই বিজেপি বিদায় নিলেই বারাণসী আবার মুক্ত হয়ে হাসবে।” একইসঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সমাজবাদী পার্টি ক্ষমতায় আসলেই বারাণসীতে আধুনিক ‘মেট্রো রেল’ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

পণ্ডিত ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ও সনাতন ধর্ম বিতর্ক: বাগেশ্বর ধামের প্রধান পণ্ডিত ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও ভগবান রামকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি করা বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও বিজেপিকে বিঁধেছেন অখিলেশ। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সনাতন ধর্মের নাম ভাঙানো এই ধরনের ভণ্ড অনুসারীদের আলতুফালতু মন্তব্যে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে প্রশাসন ও বিজেপির উচিত এদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনা।”

বারাণসীর মাটি থেকে অখিলেশ যাদবের এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ও ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হওয়ার আগাম ঘোষণায় উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক পারদ এখন মধ্যগগনে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *