‘সরকারি চত্বরে ধর্মীয় কাঠামো নয়!’-ভাঙা পড়বে ১০০ বছরের পুরনো মসজিদ? হাইকোর্টে কী জানাল কেন্দ্র

সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দিল্লির ঐতিহাসিক কৃষি ভবনের চত্বরে থাকা ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো ‘কাদিমি মসজিদ’ সরিয়ে ফেলার পক্ষে সওয়াল করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্র সরকারের যুক্তি— কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ জায়গা। তাই সরকারি সম্পত্তি চত্বরে কোনো স্থায়ী ধর্মীয় কাঠামো রাখা তার প্রশাসনিক ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সম্প্রতি কাদিমি মসজিদ পরিচালন কমিটির করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্টে একটি বিশদ হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র।

ধর্মনিরপেক্ষতার যুক্তি ও মাস্টার প্ল্যান

কেন্দ্রের আইনজীবী নিশান্ত গৌতম আদালতে জানান, কৃষি ভবন এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট কমপ্লেক্স সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ সরকারি জায়গা। এই এলাকাগুলি কেবল সরকারি কাজকর্ম, প্রশাসনিক পরিচালনা এবং জনপরিষেবার জন্যই নির্ধারিত।

সংবাদ সংস্থা PTI সূত্রে খবর, কেন্দ্র তার হলফনামায় জানিয়েছে, সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্নির্মাণের নতুন মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ১২০ নম্বর প্লটে ‘কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট’-এর ৪ ও ৫ নম্বর ভবন নতুন করে গড়ে তোলা হবে। আর এই কাজের জন্যই বর্তমান শাস্ত্রী ভবন ও কৃষি ভবনের কাঠামো পরিবর্তন প্রয়োজন।

জমির মালিকানা ও বিকল্প জায়গার দাবি খারিজ

কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে কৃষি ভবনের যে জায়গায় কাদিমি মসজিদটি অবস্থিত, তা ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (L&DO) অধীনস্থ সরকারি জমি। দিল্লির কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকায় সরকারি জমি স্থায়ীভাবে কোনও ধর্মীয় কাজের জন্য বরাদ্দ করা যায় না।

সরকার আরও স্পষ্ট করেছে যে, ১৯৪০ সালের ৮ নভেম্বর একটি সাময়িক চুক্তির মাধ্যমে মসজিদ কমিটিকে ওই জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল মাত্র। কিন্তু সেই চুক্তির মাধ্যমে জমির ওপর পরিচালন কমিটির কোনও আইনি অধিকার বা মালিকানা তৈরি হয়নি। ফলে, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের জন্য মসজিদটি অক্ষত রাখা বা অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য বিকল্প জমি দেওয়ার দাবিও পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র।

বিকল্প নমাজের জায়গা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা

কৃষি ভবনের আশপাশে নমাজ পড়ার স্থান নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে সরকার জানায়, কৃষি ভবনের মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যেই আরেকটি সচল মসজিদ রয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলের পুণ্যার্থীরা চাইলে সেখানে গিয়ে নমাজ আদায় করতে পারেন।

উল্লেখ্য, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে শতবর্ষ প্রাচীন এই কাদিমি মসজিদটি ভেঙে ফেলা হতে পারে— এই আশঙ্কায় দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মসজিদ পরিচালনা কমিটি। তবে কেন্দ্র হাইকোর্টে নিজেদের অনড় অবস্থানে অনড় থেকে আইনি জবাব দাখিল করায় বিষয়টি এখন কোন মোড় নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শিবিরের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *