ঘিয়ে ভেজালের সন্দেহ! মহারাষ্ট্রে ৯ কোটির ভেজাল খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত, গ্রেপ্তার ১৬

পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের এক বড় ডিস্ট্রিবিউটরের গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ঘি বাজেয়াপ্ত করল মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ামক সংস্থা (FDA)। সেই সঙ্গে রাজ্যব্যাপী অভিযান চালিয়ে মোট প্রায় ৯ কোটি টাকার নিম্নমানের ও ভেজাল সন্দেহে খাদ্যসামগ্রী আটক করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করার অপরাধে ১৯টি খাদ্য প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ী সংস্থার লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিল করেছে প্রশাসন।
সোমবার মহারাষ্ট্র FDA-র প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের মোট সাতটি অঞ্চলের ১১৪টি প্রতিষ্ঠানে একযোগ অভিযান চালানো হয়। এই তল্লাশিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৩.৫৩ লক্ষ কেজি খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯.০১ কোটি টাকা।
নজরদারিতে পতঞ্জলির গরুর দুধের ঘি
এই পুরো অভিযানের মধ্যে পতঞ্জলির গরুর দুধের ঘি নিয়ে সবচেয়ে বেশি শোরগোল তৈরি হয়েছে। ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের ‘দিব্য মহাবিতরক’ নামে পতঞ্জলির এক সুপার ডিস্ট্রিবিউটরের গুদামে হানা দিয়ে ২,২৭৯.৭ লিটার ঘি আটক করেছেন আধিকারিকরা। বাজেয়াপ্ত ৪,০৩২টি ঘিয়ের প্যাকেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০.২০ লক্ষ টাকা। এফডিএ সূত্রে খবর, ওই প্রোডাক্টের প্যাকেটের গায়ে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছিল এবং এতে ভেজালের চরম সন্দেহ রয়েছে।
অন্যান্য ব্র্যান্ড ও কারখানার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ
কেবল পতঞ্জলিই নয়, একাধিক নামী-বেনামী ব্র্যান্ডের খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। মুম্বই, অমরাবতী এবং ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বেশ কিছু নমকিন, মিষ্টি ও মশলা তৈরির কারখানায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পোকা দমনের ব্যবস্থার অভাব এবং সঠিক নথিপত্র না থাকার প্রমাণ মিলেছে।
এছাড়া, থানের ভিওয়ান্ডিতে ‘অ্যাভিনিউ সুপারমার্টস’-এর গুদাম থেকে ১,৪৪,২১৮ কেজি ভোজ্য তেল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সাতারার ‘আমিন ট্রেডার্স’ থেকে আটক করা হয়েছে ২০,৫৬০ কেজি চাল, ডাল ও গুড়-সহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।
দেদার আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার
গত ২৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই সব নিম্নমানের ও ক্ষতিকর খাদ্যসামগ্রী বিক্রির দায়ে মোট ১৩টি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৭টি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৬টি পণ্যবাহী গাড়ি আটক করেছে পুলিশ। পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় রাজ্যের ২৯টি হোটেল ও রেস্তোরাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছে।