হাড়হিম ১৩ হাজার ফুট উঁচুতে মরণধস! বরফের কবর থেকে উদ্ধার ২ পর্বতারোহীর দেহ, বন্ধ সব ট্রেকিং

উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার দুর্গম কেদারতাল এলাকায় পর্বতারোহণ করতে গিয়ে আকস্মিক তুষারধসের কবলে পড়া নিখোঁজ অভিযাত্রীদের সন্ধান অভিযানে মিলল বড়সড় সাফল্য ও শোকের খবর। মঙ্গলবার বরফের স্তূপের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় এক পুরুষ ও এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, প্রবল তুষারঝড় ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে এই রেস্কিউ অপারেশন চালাতে উদ্ধারকারী দলকে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।

১৩ জনের অভিযাত্রী দল ও হিমালয়ে আটকে পড়ার গল্প: প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৭ জন মূল পর্বতারোহী এবং ৬ জন গাইড, রাঁধুনি ও পোর্টারসহ মোট ১৩ জনের একটি অভিযাত্রী দল গত ২৭ অক্টোবর গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতাল ট্রেকে রওনা দিয়েছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে তাঁদের ফিরে আসার কথা থাকলেও হিমালয়ের বুকে হঠাৎ নেমে আসে বিধ্বংসী তুষারঝড় ও তুষারধস।

রাস্তায় বিপদের পূর্বাভাস পেয়ে দলের এক রাঁধুনি আগেই ফিরে এসে খবর দিলে প্রশাসনিক স্তরে শোরগোল পড়ে যায়। ৩০ অক্টোবর স্থানীয় এজেন্সিগুলোর পাঠানো দল ৬ কিলোমিটার বরফ কেটে এগোলে চারজনকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে ভোজখারাকের দুর্গম এলাকার ওপারে বাকিরা আটকা পড়েন।

সেনা ও এসডিআরএফ-এর যৌথ রেস্কিউ মিশন: মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে পা দেওয়া এই অভিযানের সকালে আবহাওয়া সামান্য পরিষ্কার হতেই এসডিআরএফ (SDRF), নেহেরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং (NIM) এবং এনডিআরএফ (NDRF)-এর যৌথ দল উদ্ধারকাজে নামে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে চলা টানা অভিযানের পর বরফের নিচ থেকে বরফাবৃত দুই পর্বতারোহীর দেহ উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা সম্ভব হয়।

প্রায় ৪,০০০ মিটার (১৩,০০০ ফুটের বেশি) উঁচুতে অবস্থিত কেদারতাল এলাকায় বরফ ধসে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পায়ে হেঁটে যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এসডিআরএফ কমান্ড্যান্ট অর্পণ যাদুবংশী জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করতে আকাশপথে চপারের সাহায্যে অতিরিক্ত সদস্য পাঠানো হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার বিকেল ৩টের পর আবহাওয়ার ফের অবনতি ঘটায় দিনের মতো অভিযান স্থগিত রেখে রেস্কিউ টিম বেসক্যাম্পে ফিরে আসে। বুধবার সকালে ফের নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হবে।

উচ্চ-উচ্চতার সমস্ত ট্রেকে জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি: উত্তরাখণ্ডের কেদারতালে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ের পর পর্বতারোহীদের সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে গঙ্গোত্রী জাতীয় উদ্যান ও উত্তরকাশী বন বিভাগ। ৪,০০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার সমস্ত ট্র্যাকিং রুটে নতুন পারমিট ইস্যু করা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গৌমুখ-তপোবন, কালিন্দী খাল, উদাঙ্কল, লামখাগা পাস এবং ত্রিখণ্ডা ট্রেকিং রুটেও আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের যাতায়াত কঠোরভাবে সীমিত ও স্থগিত রাখা হয়েছে।

নিখোঁজ বাকি সদস্যদের কি তাজা বরফের নিচ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে? বুধবার সকালে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি দেখেই তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে উত্তরকাশী জেলা প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *