ইডেনে শামির ভাইয়ের দাপট নিমেষে মাটি! শেষ উইকেটের রূপকথার জুটিতে বাংলার বুক থেকে ম্যাচ কেড়ে নিল মহারাষ্ট্র

রনজি ট্রফিতে ইডেন গার্ডেন্সে প্রথম দিনের বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল বাংলা দল। শামির ভাইয়ের ঝোড়ো বোলিং আর সকালের দুর্দান্ত সূচনায় মহারাষ্ট্রকে চেপে ধরার পরিকল্পনা থাকলেও, দিনের শেষে সেই সমস্ত ছক ভেস্তে গেল। মহারাষ্ট্রের শেষ উইকেটের লড়াকু জুটি বাংলার বোলারদের সমস্ত অস্ত্র ভোঁতা করে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিল।

শামির ভাইয়ের ধাক্কায় দারুণ শুরু বাংলার: মাত্র ১৪৩ রানে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর বাংলার সামনে লক্ষ্য ছিল মহারাষ্ট্রকে কম রানে বেঁধে ফেলা। সেই কাজটাই দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই করতে নেমেছিলেন পেসাররা। প্রথম দিন শেষে ২ উইকেট হারানো মহারাষ্ট্রের ওপর চড়াও হন মহম্মদ শামির ভাই মহম্মদ কাইফ। তাঁর নিখুঁত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন মহারাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ব্যাটার অঙ্কিত বাওন (৭)। এর ঠিক কিছু ওভার পরেই বাংলার তরুণ পেসার সূরজ সিন্ধু জয়সওয়ালের দুর্দান্ত আউটসুইংয়ে পরাস্ত হয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সচিন ধাস।

পুরোনো বল হাতে আসতেই উধাও ম্যাজিক: সকালের সেশনে বাংলার পেসারদের এই সাফল্যের পর মনে করা হয়েছিল প্রতিপক্ষকে খুব দ্রুত গুটিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু কাজের কাজটা করতে গিয়েই খেই হারায় বাংলা। বল যত পুরোনো হতে শুরু করে, বাংলার বোলিং আক্রমণের ধারও ততই কমতে থাকে। উইকেটের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হন বোলাররা।

সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় মহারাষ্ট্রের শেষ উইকেট জুটি। ৯ এবং ১০ নম্বর ব্যাটারদের দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরাতে গিয়ে রীতিমতো নাজেহাল হতে হয় বাংলার বোলারদের। উল্টে এই শেষ জুটিতেই বোর্ডে যোগ হয়ে যায় মহামূল্যবান অপরাজিত ৪৯ রান, যা পুরো ইনিংসে মহারাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ হিসেবে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

দ্বিতীয় দিনের শেষে এই প্রতিরোধই বাংলার যাবতীয় পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে। এখন দেখার, তৃতীয় দিনে এই রান পাহাড় টপকে বাংলা দল ম্যাচ বাঁচাতে বা কামব্যাক করতে কী কৌশল নেয়।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *