লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক যাওয়ার এক পাগলাটে বাজি! ২৮ বছর ধরে হেঁটে বিশ্ব ঘুরে অবশেষে মায়ের কোলে কার্ল

এক অদ্ভুত জেদ আর বাবার করা একটি সাধারণ প্রশ্ন—“আচ্ছা, লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত কি হেঁটে যাওয়া সম্ভব?” আর সেই সূত্র ধরেই জীবনের দীর্ঘ ২৮টি বছর পায়ে হেঁটে গোটা বিশ্ব চষে অবশেষে শৈশবের চেনা ঠিকানায় ফিরে এলেন কার্ল বাশবি (Karl Bushby)। সোমবার সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই হাল শহরের চত্বরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপচে পড়েছিল শত শত মানুষের ভিড়। ২৯ বছর বয়সে যে অভিযান শুরু হয়েছিল, আজ ৫৭ বছর বয়সে এসে তার সফল সমাপ্তি ঘটল।
🌍 ২৮ বছরের রোমাঞ্চকর ও কঠিন পথচলা
১৯৯৮ সালে চিলি থেকে নিজের ঐতিহাসিক পদযাত্রা শুরু করেছিলেন কার্ল। সঙ্গে ছিল কেবল একটি তাঁবু, কয়েকশো ডলার আর প্লাস্টিকের একটি সাধারণ ক্যামেরা। গত প্রায় তিন দশক ধরে তাঁকে মুখোমুখি হতে হয়েছে চরম প্রতিকূলতার:
-
মধ্য আমেরিকার দুর্গম ও ঘন জঙ্গল কেটে তৈরি করতে হয়েছে পথ।
-
পাড়ি দিতে হয়েছে আলাস্কা ও রাশিয়ার মাঝের হাড়হিম করা বরফঢাকা অঞ্চল।
-
এ ছাড়াও এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন জনপদ পেরিয়ে, কাস্পিয়ান সাগর সাঁতরে এবং যাত্রাপথের একদম শেষ প্রান্তে এসে গত মাসে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার হয়ে তবেই দেশের মাটি ছুঁয়েছেন তিনি।
🏠 মায়াবী প্রত্যাবর্তন ও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান
ছোটবেলায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্যারাসুট রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে সংসার বাঁধলেও স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বিশ্ব-মানচিত্রে একটি রেখা টেনে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন কার্ল। দীর্ঘ ২৮ বছর পর যখন তিনি নিজের ঘরের দরজায় পা রাখলেন, তখন সেখানে তাঁর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন তাঁর মা, ৩৬ বছরের ছেলে এবং ১২ বছরের এক নাতনি।
হাল শহরের চত্বরে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত কার্ল উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “২৮ বছর পর এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার থাকতে পারে না।” এরপর নিজের সেই পুরোনো ট্রলিটা টেনে ধীরে ধীরে বাড়ির অন্দরে মিলিয়ে যান তিনি। ট্রলিতে ছিল সামান্য কিছু জিনিস আর ওপরে একটি অতিরিক্ত টায়ার—যা এত দিন তাঁর বিশ্বভ্রমণের সাক্ষী ছিল।
বর্তমানে কার্লের এই অবিশ্বাস্য এবং রোমাঞ্চকর জীবন সংগ্রাম নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে বক্তৃতা দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে এই বিশ্বজয়ী অভিযাত্রীর।