“পঞ্জাবে আপ-এর দিন শেষ!” দিল্লিতে পদ্ম-শিবিরে যোগ দিয়েই বিস্ফোরক কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ ও চেতন সিং

আসন্ন পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের ক্ষমতাসীন দল আম আদমি পার্টিতে (AAP) বড়সড় ধস। সোমবার একযোগে আপের তিন প্রভাবশালী বিধায়ক ইস্তফা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগদান করলেন। নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে গেরুয়া শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নেন এই তিন জননেতা।
কারা ছাড়লেন কেজরিওয়ালের দল? বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই তিন শীর্ষ নেতা হলেন:
-
কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং (অমৃতসর উত্তর বিধানসভার বিধায়ক)
-
চেতন সিং জোড়ামাজরা (সামানার বিধায়ক)
-
হরমিত সিং পাঠানমাজরা (সানৌর বিধানসভার বিধায়ক)
উল্লেখ্য, চেতন সিং জোড়ামাজরা ও হরমিত সিং পাঠানমাজরা রবিবারই বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। অন্যদিকে, সোমবার ইস্তফা জমা দেন প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা তথা অমৃতসর উত্তরের বিধায়ক কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং।
💥 কেজরিওয়াল ও ভগবন্ত মানের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ
বিজেপিতে যোগদানের পরেই আপের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়ান প্রাক্তন তিন বিধায়ক:
-
কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং-এর তোপ:
“পঞ্জাবে আম আদমি পার্টির সরকারের অবসান ইতিমধ্যেই ঘটে গিয়েছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ভগবন্ত মান নিজেই দলের এই করুণ পরিণতির জন্য দায়ী। রাজ্যে বাস্তবে আর ‘আপ’-এর কোনো অস্তিত্ব নেই। এবার পঞ্জাবেও ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকার গঠিত হবে। আমি নিজে অমৃতসরের এসপি ছিলাম, মাদক সমস্যা ও গ্যাংস্টার কালচার পুরোপুরি নির্মূল করেছিলাম। কিন্তু আমি রাজনীতিতে নামার পর পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”
-
চেতন সিং জোড়ামাজরা-র অভিযোগ:
“পঞ্জাব তার অতীতের গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। রাজ্যে এখন প্রধান ব্যাধি হলো অনিয়ন্ত্রিত অপরাধ ও ড্রাগস। গত পাঁচ বছরে আপ সরকারের অধীনে পঞ্জাবের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাজের স্বার্থে যোগাযোগ পর্যন্ত করতে দেওয়া হতো না।”
-
হরমিত সিং পাঠানমাজরা-র বক্তব্য:
“পঞ্জাবে কেউ যদি রাজ্যের উন্নতির কথা বলত, তাকেই কোণঠাসা করে রাখা হতো। বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে রাজ্যটাকে পুরো দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ভেতরে ও বাইরে থাকা পঞ্জাবিদের কাছে আমাদের আবেদন, এবার একটা উন্নয়নমুখী পঞ্জাব গড়ে তুলতে বিজেপি সরকার গঠনে সাহায্য করুন।”
🍊 “এটা তো কেবল শুরু!” — দাবি বিজেপি নেতৃত্বের
দলীয় কার্যালয়ে এই তিন নেতাকে স্বাগত জানান প্রবীণ বিজেপি নেতা সতীশ পুনিয়া এবং অনিল সারিন।
সতীশ পুনিয়া পঞ্জাব ও প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানার তুলনা টেনে বলেন, “বিগত ৬০ বছরে হরিয়ানা খেলাধুলো থেকে শুরু করে শিল্পে কতটা এগিয়ে গিয়েছে, অথচ পঞ্জাব ক্রমাগত পিছিয়ে পড়েছে শুধু ভুল রাজনীতির জন্য। রাজ্যে ড্রাগসের সাম্রাজ্য বন্ধ করতে এবং হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফেরাতে বিজেপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
অন্যদিকে বিজেপি নেতা অনিল সারিন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে জানান, “এটি কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র, শুরু হলো। আপ-এর আরও বহু নেতা-বিধায়ক বুঝে গিয়েছেন যে কেবল বিজেপিই পঞ্জাবকে বেকারত্ব, দুর্নীতি ও ড্রাগস থেকে মুক্ত করতে পারে। খুব শীঘ্রই আরও অনেক বড় মুখ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছেন।”
বিধানসভা ভোটের ঠিক মুখে পঞ্জাবের রাজনীতির এই নতুন মোড় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের জন্য এক বিরাট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।