গেমের নেশায় রক্তের হোলি! বাবার প্রাণ কাড়ল মেয়ের আসক্তি, সুরাটের রোমহর্ষক কাণ্ডে স্তব্ধ পুলিশ

প্রযুক্তির অতিরিক্ত আসক্তি যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তার এক নৃশংস ও মর্মান্তিক উদাহরণ দেখল গুজরাটের সুরাট শহর। মোবাইল ফোনে গেম খেলার সময় বাবা বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এক ২২ বছরের তরুণী নিজের ৫৫ বছরের বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। কুকারের ঢাকনা দিয়ে মাথায় আঘাত এবং পরবর্তীতে ছুরিকাঘাত করে বাবাকে খুনের এই লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সুরাটে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম ৫৫ বছর বয়সী রমেশ চৌহান। অভিযুক্ত তরুণী তাঁরই ২২ বছরের মেয়ে কাজল। পেশায় প্রায় সারাদিনই মোবাইল ফোনে বিভিন্ন অনলাইন গেমে মগ্ন থাকত কাজল। এই অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তির কারণে মেয়েকে প্রায়শই বকাঝকা করতেন বাবা রমেশ চৌহান।
ঘটনার দিনও কাজল তার মোবাইল ফোনে গেম খেলছিল। সেই সময় বাবা তাকে গেম খেলতে বারণ করেন এবং ফোনটি রাখতে বলেন। এই সামান্য বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই বাবা ও মেয়ের মধ্যে তীব্র কথাকাটাকাটি শুরু হয়। ক্ষোভ ও উত্তেজনার বশে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে কাজল। অভিযোগ, সে হাতের কাছে থাকা একটি ভারী প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে সজোরে তার বাবার মাথায় আঘাত করে। এরপর ধারালো অস্ত্র বা ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে ঘটনাস্থলেই খুন করে তাঁকে।
পুলিশের জালে অভিযুক্ত কন্যা
হত্যাকাণ্ডের পরই বাড়িতে চরম হুলস্থুল পড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তে ভেজা দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশ অভিযুক্ত কাজলকে আটক করে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে। জেরার মুখে পুলিশের কাছে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়েছে ওই তরুণী। মোবাইলের নেশা কীভাবে একটি হাসিখুশি পরিবারকে মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করল, তা ভেবেই হতবাক তদন্তকারী অফিসাররা।3