পুরনো গাড়িতে রাজধানীতে এন্ট্রি বন্ধ! দিল্লির নতুন দূষণ বিধিতে কোন কোন যানবাহনকে ছাড় দেওয়া হলো?

রাজধানী দিল্লিতে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ রোধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। গত ১ নভেম্বর, ২০২৬ থেকে অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা বিএস৬ (BS6)-এর চেয়ে পুরোনো মডেলের সমস্ত বাণিজ্যিক ও চারচাকার যানের দিল্লি প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর ফলে দিল্লি-এনসিআর ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির লক্ষ লক্ষ যানবাহন সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে দিল্লি সরকার এই নিষেধাজ্ঞা থেকে দু-চাকার যান, সিএনজি (CNG) চালিত গাড়ি এবং বৈদ্যুতিক বাহনগুলিকে (EV) সাময়িক ছাড় দিয়েছে।

কিন্তু এই নতুন নিয়মের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে— তাহলে কি বিএস৬ (BS6) বা লেটেস্ট প্রযুক্তির গাড়িগুলো সম্পূর্ণ শূন্য দূষণ (Zero Pollution) নির্গত করে? এই গাড়িগুলোর ক্ষতিকর ধোঁয়া আসলে কোথায় যায় এবং এর ভেতরের প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? চলুন জেনে নেওয়া যাক এর বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত রহস্য।

বিএস৬ প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে?

বিএস৬ বা ভারত স্টেজ ৬ (Bharat Stage 6) হলো ভারতের গাড়ি শিল্পের জন্য তৈরি সরকারের নির্ধারিত সর্বাধুনিক নির্গমন মান। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো গাড়ির ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনা। পুরনো বিএস৪ (BS4) ইঞ্জিনের তুলনায় বিএস৬ ইঞ্জিনে উন্নত ফিল্টার এবং ক্যাটালিটিক কনভার্টার ব্যবহার করা হয়।

বিএস৬ গাড়ির ধোঁয়া কোথায় যায়?

অনেকেরই ধারণা, বিএস৬ গাড়ি হয়তো কোনো ধোঁয়াই ছড়ায় না। কিন্তু ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। এই গাড়ি থেকেও ধোঁয়া বের হয়, তবে তাতে দূষণ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদান যেমন— কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) এবং পার্টিকুলেট ম্যাটার (PM) বা অতি সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে।

গাড়ির এক্সহস্ট সিস্টেমে থাকা বিশেষ ফিল্টার বা ‘ডিজেল পার্টিকুলেট ফিল্টার’ (DPF) এবং ‘সিলেক্টিভ ক্যাটালিটিক রিডাকশন’ (SCR) প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বিষাক্ত কণাগুলিকে আটকে দেওয়া হয় এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলোকে কম ক্ষতিকর নাইট্রোজেন ও জলীয় বাষ্পে পরিণত করে বায়ুমণ্ডলে ছাড়া হয়। অর্থাৎ, ধোঁয়া বের হলেও তা আগের তুলনায় বহুগুণ পরিচ্ছন্ন থাকে।

দিল্লির মতো মেগাসিটিতে বায়ুদূষণের মাত্রা লাগামছাড়া হওয়ায় প্রশাসন বাধ্য হয়েই বিএস৬-এর নিচের পুরোনো গাড়িগুলির প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, বিশেষজ্ঞদের মতে যানবাহনের সংখ্যা এবং সামগ্রিক পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে পুরোপুরি দূষণমুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *