প্রতিদিন বাড়ছে ৩০০০ নতুন গাড়ি! সিলিকন ভ্যালির বিষাক্ত বাতাসে হাঁসফাঁস করছে আমজনতা, উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা

তথ্যপ্রযুক্তির রাজধানী তথা দেশের অন্যতম আধুনিক শহর বেঙ্গালুরু। কিন্তু আইটি সিটির এই ঝকঝকে ইমেজের নেপথ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এক মারাত্মক ও নিঃশব্দ বিপদ। হু-হু করে বাড়তে থাকা যানবাহনের ধোঁয়া আর ধুলোবালিতে দিন দিন বিষাক্ত হয়ে উঠছে বেঙ্গালুরুর বাতাস। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়েছেন সেই সমস্ত কর্মীরা, যাঁরা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাজ করতে বাধ্য হন।
‘ইনস্টিটিউট অফ অকুপেশনাল অ্যান্ড এয়ার হেলথ’-এর দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলা এক সাম্প্রতিক গবেষণায় সড়ক কর্মীদের স্বাস্থ্য নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিদিন বাড়ছে হাজার হাজার নতুন গাড়ি
বেঙ্গালুরুর রাজপথে বাড়ছে যানবাহনের চাপ। সমীক্ষা বলছে, একসময় শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২,৫০০টি নতুন যানবাহন নথিভুক্ত হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩,০০০-এ দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, খুব শীঘ্রই শহরে পুরোনো ও নতুন মিলিয়ে মোট যানবাহনের সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যানবাহনের অন্তহীন ধোঁয়া, রাস্তার ধুলোবালি এবং যত্রতত্র চলা মেগা নির্মাণকাজের জেরে বেঙ্গালুরুর বায়ুর গুণমান মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে।
কাদের স্বাস্থ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
গবেষণায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ক্রমবর্ধমান দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন তারা, যাঁরা জীবিকার তাগিদে সারাদিন রাস্তায় থাকেন:
বিএমটিসি (BMTC) বাস চালক ও কর্মীরা: যাঁরা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টিয়ারিং ধরে শহরের ধোঁয়া ও জ্যামের মধ্যে সময় কাটান।
ট্রাফিক পুলিশকর্মী: যাঁদের খোলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে প্রতিদিন বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড ও ধূলিকণা নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে হয়।
নির্মাণ শ্রমিক ও পৌরসভার কর্মীরা: যাঁরা রোদে পুড়ে, ধুলোবালি ও সিমেন্টের গুঁড়োর মধ্যে দিনের পর দিন কায়িক পরিশ্রম করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে কঠোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে বেঙ্গালুরুর এই পরিবেশগত সংকট আগামী দিনে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক বিরাট বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।