মোদী খোঁচা দিতেই ঘুরে গেল খেলা! নাগপুরে আরএসএস-এর গড় ছিনিয়ে নিয়ে মোদী-ফড়ণবীসকে মোক্ষম জবাব কংগ্রেসের

চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে ব্যালট পেপারের ভোট নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সেই আক্রমণের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই চিত্রপট পুরোপুরি বদলে গেল! সংঘের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নাগপুরের আসনে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিল কংগ্রেস। শুধু নাগপুরই নয়, প্রধানমন্ত্রীর নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতেও বিজেপিকে ধরাশায়ী করেছে বিরোধী শিবির। এই জোড়া ধাক্কার পরই চরম অস্বস্তিতে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজের একটি এক্স-পোস্ট তড়িঘড়ি মুছে ফেলতে বাধ্য হন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ।
‘জিরো’ খোঁচাতেই ঘুরল খেলা, জয় নাগপুরে
মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ এবং বিহারের মোট ২৮টি বিধান পরিষদ আসনের মধ্যে ১২টিতে লড়েছিল কংগ্রেস। প্রাথমিকভাবে গণনায় দেখা যায়, কোনো আসনেই খাতা খুলতে পারেনি শতাব্দীপ্রাচীন দলটি। এমনকি কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকেও একটিও আসন মেলেনি। এই সুযোগে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে সরব হয়ে নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, “চারটি বড় রাজ্যের ২৮টি আসনে ব্যালট পেপারে ভোট হয়েছে। বলুন তো, কংগ্রেস কটি আসনে জয়ী হল?”
তবে বৃহস্পতিবার সকালে গণনার চরম মুহূর্তে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। নাগপুরের স্নাতকদের জন্য সংরক্ষিত হাই-প্রোফাইল আসনটিতে জয়ী হন কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থী অভিজিৎ ওয়ানজারি। তিনি বিজেপি প্রার্থী সুধাকর কোহালেকে ৩২৭১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। অভিজিৎ পান ৬৭,২৩১টি ভোট এবং বিজেপি প্রার্থী পান ৬৩,৯৬০টি ভোট। নাগপুর কেবল আরএসএস-এর সদর দফতরই নয়, এটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ি এবং মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের নিজস্ব শহর। বিজেপির দুর্গে এই থাবা বসানোর পরপরই জলঘোলা শুরু হয় রাজনীতিতে।
বারাণসীতেও বিপাকে বিজেপি! সমাজবাদী পার্টির জয়জয়কার
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতেও বড় বিপর্যয় ঘটেছে বিজেপি শিবিরের। বারাণসীর শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সমাজবাদী পার্টি (SP)। পাশাপাশি, স্নাতকদের জন্য সংরক্ষিত দ্বিতীয় আসনটিতেও সপা প্রার্থীই বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
‘আর বারাণসী যাবেন না, গেলেই হারবেন!’— মোদীকে কংগ্রেসের তোপ
নাগপুর ও বারাণসীর জয়ের পরই প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বারাণসীতে নরেন্দ্র মোদীর জয়ের ব্যবধান কমে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কংগ্রেস মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনেত বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এখন ব্যালটের দোহাই দিচ্ছেন! আগে উনি জবাব দিন, ব্যালটে ভোট হতেই কীভাবে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতেও হেরে গেল তাঁর দল? প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি আর বারাণসীতে যাবেন না, গেলেই হারতে হবে!”
কংগ্রেস সাংসদ পবন খেরা ও অজয় রাইও একই সুরে আক্রমণ শানান। পবন খেরা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর যদি ব্যালটের প্রতি এতই বিশ্বাস থাকে, তবে আগামী লোকসভা ও সব বিধানসভা ভোট ব্যালট পেপারেই করিয়ে দেখুন না!” অন্যদিকে অজয় রাই অভিযোগ করেন, ২০২৪-এর নির্বাচনে মোদীকে জেতাতে বারাণসীতে ফলাফলে কারসাজি করা হয়েছিল, যা এখন ব্যালটে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
নাগপুরে ধাক্কা ও বারাণসীতে আসন হাতছাড়া হওয়ার পর, বিধান পরিষদ ভোটের এই ফলকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শাসক-বিরোধী লড়াই এক অন্য মাত্রা পেল।