শিক্ষকতায় বিরাট বদল! নতুন চাকরি পেলেই বন্ধ রাজনীতির রাস্তা, সরকার দিল কড়া বার্তা

রাজ্যে নতুন করে বড় মাপের শিক্ষক নিয়োগের (Teacher Recruitment) তোড়জোড় শুরু হতেই শিক্ষক নিয়োগের নিয়মাবলীতে এক যুগান্তকারী ও নজিরবিহীন শর্ত যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। নতুন নীতি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে যাঁরা নতুন করে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা সরকার পরিচালিত স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পাবেন, তাঁরা আর সরাসরি কোনো রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনের মতো কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের ওপর এই কড়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তবে বর্তমানে ইতিমধ্যেই যাঁরা শিক্ষকতা করছেন এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

৪ হাজারেরও বেশি প্রাথমিকসহ মোট ২২ হাজারের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের বড় ঘোষণা
রাজ্য মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি স্তরে জানানো হয়েছে যে, শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে বৃহৎ পরিসরে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী—

প্রাথমিক স্তর: ৪,৪৩২ জন

উচ্চ প্রাথমিক স্তর: ৬,০৫২ জন

মাধ্যমিক স্তর: ১২,৩৪৩ জন সহ-শিক্ষক পদে নিয়োগ করা হবে।

স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং শর্তাবলীর মধ্যেই শিক্ষকদের সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার ওপর বিধিনিষেধের বিষয়টি স্পষ্ট করে যুক্ত করে দেওয়া হবে।

‘কেরল ছাড়া কোথাও শিক্ষকরা সরাসরি রাজনীতি করেন না’
নতুন এই নিয়মের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগে থেকে যাঁরা শিক্ষকতা করছেন এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের গণতান্ত্রিক বা রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে না। তবে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল উন্নতি, গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষকতা পেশার পূর্ণ মর্যাদা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। কেরল ছাড়া দেশের অন্য কোনো রাজ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার নজির নেই বললেই চলে, তাই বাংলাতেও এবার থেকে এই কঠোর নিয়ম চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তীব্র বিরোধিতা শিক্ষক সংগঠনগুলির
সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে একাধিক শিক্ষক সংগঠন তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের প্রতিক্রিয়া: সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী প্রশ্ন তুলেছেন যে, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার পরিচালিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে এই আইনি নিয়ম আদতে কতটা বাস্তবসম্মত? তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শিক্ষকরা যাতে নিজেদের কোনো ন্যায্য দাবিতে বা নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে না পারেন, তার জন্যই কি এই সিদ্ধান্তের আড়াল তৈরি করা হচ্ছে? কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত না থেকে শিক্ষকরা নিজস্ব দাবি জানালেও কি সেটাকে রাজনীতি বলা হবে?”

গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস শিক্ষক সংগঠন: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, শিক্ষকরা যদি তাঁদের মূল দায়িত্ব অর্থাৎ ছাত্রছাত্রীদের সঠিক পঠনপাঠন ঠিকভাবে পরিচালনা করেন, তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতির মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত থাকলে তাতে সমাজেরই ভালো হয়।

সব মিলিয়ে, সাড়ে ২২ হাজারেরও বেশি পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগের আনন্দ বার্তার পাশাপাশি সরাসরি রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞার এই নয়া শর্ত এখন রাজ্যের রাজনৈতিক ও শিক্ষা সচেতন মহলে জোর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *