আইটি হানা ও সিআইডি-র নোটিশ! এলাকা থেকে নিখোঁজ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম, তীব্র চাঞ্চল্য জগদ্দলে

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই উধাও জগদ্দলের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম। কিন্তু এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিলেও পার পাননি তিনি। একাধিক বেআইনি ও দুর্নীতিমূলক কাজের অভিযোগে এবার তাঁর ওপর নেমে এলো জোড়া প্রশাসনিক আঘাত! একদিকে বুধবার গভীর রাতে নৈহাটিতে প্রাক্তন বিধায়কের নিজ বাসভবনে হঠাৎ হানা দিল আয়কর বিভাগ (IT)। অন্যদিকে, একই দিনে জগদ্দলে তাঁর শ্বশুরবাড়ির দরজায় সমনের নোটিশ সেঁটে দিল রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ বা সিআইডি (CID)। জোড়া তদন্তকারী সংস্থার এই সাঁড়াশি অভিযানে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পুরো ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে।
নৈহাটির বাড়িতে গভীর রাতে আয়কর দপ্তরের তল্লাশি
বুধবার রাতে আচমকাই সাতজনের তদন্তকারী আধিকারিকদের একটি বিশেষ আয়কর টিম হানা দেয় সোমনাথ শ্যামের নৈহাটির বাড়িতে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর ওই বাড়ি থেকে প্রাক্তন বিধায়কের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথিপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফাইল বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যান আধিকারিকরা। যদিও মিডিয়ার সামনে এই অভিযান বা তল্লাশি সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তদন্তকারী টিমের সদস্যরা।
সিআইডি নোটিশ সেঁটতেই তুঙ্গে নাটক, ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ!
আইটি হানার পাশাপাশি এদিন সকালেই জগদ্দলের বাবু কোয়ার্টারে প্রাক্তন বিধায়কের শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত হন সিআইডি-র প্রতিনিধিরা। সোমনাথের বিরুদ্ধে একাধিক ঝুলন্ত মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই মূলত তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা সাউয়ের খোঁজে এই নোটিশ জারি করা হয়েছিল বলে খবর। কিন্তু আধিকারিকরা নোটিশ সেঁটে দিয়ে যেতেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিআইডি টিম বেরিয়ে যেতেই প্রাক্তন বিধায়কের শ্বশুরবাড়ির লোকজন ক্ষোভে সেই সরকারি নোটিশ ছিঁড়ে ফেলে দেন! প্রত্যক্ষদর্শী তথা স্থানীয় বিজেপি নেতা চন্দন গুপ্ত অভিযোগ করে বলেন, “সিআইডি আধিকারিকরা এসে সোমনাথের স্ত্রী সঙ্গীতার খোঁজ করেন এবং দেয়ালে নোটিশ সাঁটান। কিন্তু তাঁরা সরতেই প্রাক্তন বিধায়কের পরিবারের লোক সেই নোটিশ ছিঁড়ে দেন।” তবে সোমনাথের শ্যালক সঞ্জয় সাউ সিআইডি আসার কথা স্বীকার করলেও নোটিশ ছেঁড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
‘লুক আউট নোটিশ জারি হোক’— বিস্ফোরক নৈহাটির বর্তমান বিধায়ক
তৃণমূল ক্ষমতাহীন হতেই সোমনাথ শ্যামের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, সাধারণ মানুষকে মারধর, হুমকি সহ একাধিক অপরাধের অভিযোগের পাহাড় জমা পড়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তিনি এলাকা ছেড়ে পালা করায় অনেক তদন্ত থমকে রয়েছে।
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের এই পরিণতি নিয়ে নৈহাটির বর্তমান বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “সোমনাথ শ্যাম একজন চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি। তাঁর একাধিক বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জমা রয়েছে। সিআইডি ও আয়কর বিভাগ যেভাবে তদন্ত নামছে, তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রাক্তন বিধায়ককে অবিলম্বে সামনে এসে মুখ খুলতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত লুক আউট নোটিশ জারি করা, যাতে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন।”
প্রশাসন সূত্রের খবর, আত্মগোপন করে থাকলেও প্রাক্তন বিধায়ককে আর কোনোভাবে ছাড় দেওয়ার মেজাজে নেই তদন্তকারীরা। আগামী দিনে তাঁর ওপর আইনি কোপ আরও শক্ত হতে চলেছে।