প্রতিদিন সকালে ব্রাশ করার সময় এই ১টি মারাত্মক ভুল করছেন না তো? অজান্তেই ক্ষয়ে যাচ্ছে দাঁতের এনামেল!

সকালে ঘুম থেকে উঠেই দাঁত ব্রাশ করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অভ্যাস। কিন্তু ঝকঝকে ও পরিষ্কার দাঁত পেতে গিয়ে আমরা এমন কিছু ভুল পদ্ধতি অনুসরণ করে ফেলি, যা উপকারের বদলে দাঁত ও মাড়ির মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে। দন্ত চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র নিয়ম মেনে ব্রাশ করলেই চলে না; মুখ ও দাঁতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্রাশ করার সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি জানাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের এই সাধারণ অভ্যাসে কোন কোন ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
১. অতিরিক্ত চাপ দিয়ে বা জোরে দাঁত ঘষা অনেকেরই ধারণা রয়েছে, খুব জোরে ব্রাশ ঘষলে বুঝি দাঁত দ্রুত ও বেশি পরিষ্কার হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বেশি চাপ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের ওপরের শক্ত সুরক্ষাকবচ বা ‘এনামেল’ ক্ষয়ে যায়। এর ফলে মাড়ি থেকে রক্তপাত, মাড়িতে ক্ষত বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে সবসময় নরম ব্রিসল (Soft Bristle)যুক্ত টুথব্রাশ দিয়ে আলতো হাতে গোলাকার গতিতে ব্রাশ করা উচিত।
২. অতি দ্রুত বা তাড়াহুড়ো করে ব্রাশ শেষ করা সকালের ব্যস্ততায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ব্রাশ শেষ করে ফেলা অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি অভ্যাস। এতে দাঁতের খাঁজে জমা থাকা জীবাণু বা প্লাক পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না। সাধারণ নিয়মে দিনে দু’বার এবং প্রতিবার অন্তত দুই মিনিট সময় নিয়ে দাঁতের চারপাশ ও ভেতরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত।
৩. জিভ পরিষ্কার করতে ভুলে যাওয়াশুধু দাঁত পরিষ্কার করলেই মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য বজায় থাকে না। আমাদের জিভের উপরিভাগেও প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও খাবারের সূক্ষ্ম অবশিষ্টাংশ জমতে থাকে, যা মুখে দুর্গন্ধের প্রধান কারণ। তাই প্রতিদিন দাঁত ব্রাশের পাশাপাশি জিভ আলতোভাবে পরিষ্কার করা মুখে তাজা অনুভূতি বজায় রাখতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
৪. ব্রাশ করার পরপরই ফেনা ধুতে জোরে কুলি করা ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহারের পর সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর জল দিয়ে মুখ ভালো করে কুলি করে ধুয়ে ফেলা একটি ভুল অভ্যাস। চিকিৎসকদের মতে, ব্রাশ করার পরপরই জোরে কুলি করলে দাঁতে লেগে থাকা ফ্লোরাইডের প্রতিরক্ষামূলক আস্তরণটি ধুয়ে যায়, ফলে দাঁত ক্ষয়রোগের ঝুঁকিতে পড়ে। তাই ব্রাশ করার পর কেবল পেস্ট থুতু দিয়ে ফেলে দেওয়া ভালো এবং সঙ্গে সঙ্গে জল দিয়ে কুলকুচা না করাই শ্রেয়।
৫. দীর্ঘদিন ধরে একই টুথব্রাশ ব্যবহারএকটি ব্রাশ মাসের পর মাস ব্যবহার করা মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। টুথব্রাশের ব্রিসল বাঁকা বা ক্ষয়ে গেলে তা দিয়ে আর ঠিকমতো দাঁতের প্লাক পরিষ্কার হয় না। সাধারণত প্রতি তিন থেকে চার মাস অন্তর পুরনো টুথব্রাশ বদলে নতুন ব্রাশ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পুরনো ও জীবাণুবাহী ব্রাশ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে মুখে নানা ধরনের জটিল সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁতের সুরক্ষায় বাজারচলতি নামীদামি বা দামি সামগ্রীর চেয়েও প্রতিদিনের সঠিক নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস বেশি কার্যকর। সঠিক নিয়মে প্রতিদিন দু’বার ব্রাশ করা, উপযুক্ত ফ্লোরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার এবং নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমেই দাঁত ও মাড়ি দীর্ঘদিন সুস্থ-সবল রাখা সম্ভব।