মালদায় হেলমেট না পরায় বাইক আঁকড়ে ধরতেই তুলকালাম! ট্রাফিক পুলিশের এএসআই-কে রক্তাক্ত করে গ্রেফতার ২

রাজ্যে ফের আক্রান্ত আইনরক্ষক! ডিউটিতে থাকাকালীন হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো রোখাই যেন কাল হলো ট্রাফিক পুলিশের জন্য। হেলমেটবিহীন একটি বাইককে মাঝরাস্তায় আটকানোর অপরাধে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর (ASI) পদের এক প্রবীণ পুলিশ আধিকারিককে বেধড়ক মারধর ও রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠল দুই যুবকের বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদা জেলার পুকুরিয়া থানা এলাকায়। এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল মালদার পুকুরিয়ায়?
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, আইনশৃঙ্খলার নিত্যদিনের ডিউটি ও ট্রাফিক চেকিংয়ের অংশ হিসেবে পুকুরিয়া থানা এলাকার একটি জনবহুল রাস্তায় নাকা চেকিং চালাচ্ছিল পুলিশ। সেই সময় হেলমেট ছাড়াই একটি বাইকে চেপে অত্যন্ত বিপজ্জনক গতিতে যাচ্ছিলেন দুই যুবক। হেলমেট না থাকায় অন-ডিউটি ট্রাফিক এএসআই বাইকটিকে থামার সংকেত দেন এবং গাড়িটি আটকান।

অভিযোগ, বাইক আটকানো এবং চালকের কাছে বৈধ কাগজপত্র ও হেলমেট সংক্রান্ত প্রশ্ন করতেই রেগে আগুন হয়ে যায় ওই দুই আরোহী। পুলিশের সঙ্গে প্রথমে তাদের তীব্র তর্কাতর্কি ও বচসা শুরু হয়। বচসা চলাকালীনই আচমকা ওই দুই যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে ডিউটিরত এএসআই-এর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। হামলায় ওই পুলিশ আধিকারিকের মাথা ও মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তে ভেসে যান।

পুলিশের দ্রুত অ্যাকশন: গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত
ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথেই সেখানে উপস্থিত অন্যান্য পুলিশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত এএসআই-কে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।

অন্যদিকে, পুলিশ কর্মীর ওপর এহেন ন্যক্কারজনক হামলার পর আর ছাড় দেওয়া হয়নি অভিযুক্তদের। পুকুরিয়া থানার পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকেই মূল দুই অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দুই যুবকের নাম মাসিদুর রহমান ও সফিকুল।

সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া, অন-ডিউটি পুলিশ আধিকারিককে গুরুতর আঘাত করা সহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় দুই ধৃতের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। হেলমেট চেকিংয়ের মতো অতি সাধারণ ইস্যুতে এভাবে পুলিশকর্মীকে মারধর ও রক্তাক্ত করার ঘটনায় ট্রাফিক সচেতনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন উঠে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *