পহেলা নভেম্বর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের পকেটে ঢুকছে বাড়তি বেতন! তবে কোথায় আটকে আসল সমস্যা?

আগামী পহেলা নভেম্বর থেকেই নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বাড়তি বেতন ও ভাতা পেতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কর্মচারীদের জন্য এটি সুখবর হলেও, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিশাল আর্থিক চাপে পড়েছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বাড়তি অর্থ জোগাতে বাধ্য হয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে।

অথচ নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সময় সরকারের পরিকল্পনা ছিল বর্ধিত রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে এই বাড়তি খরচের সংস্থান করা। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি তো পায়ইনি, বরং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বাড়তি খরচ, বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের পাহাড়প্রমাণ চাপসহ একাধিক খাতে সরকারের পরিচালন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে।

ঋণনির্ভরতার দিকে ঝুঁকছে সরকার: বিশেষ ট্রেজারি বিল থেকে ৫ হাজার কোটি

রাজস্ব আয় আশানুরূপ না হওয়ায় সরকারকে এখন মূলত অভ্যন্তরীণ উৎসের দিকেই নজর দিতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক), বাণিজ্যিক ব্যাংক খাত, সঞ্চয়পত্র এবং ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মতো মাধ্যমগুলো থেকে ক্রমাগত ঋণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই জরুরি আর্থিক চাহিদা মেটাতে অন্যান্য ঋণের পাশাপাশি ১৪ দিন মেয়াদী বিশেষ ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পথ বেছে নিয়েছে সরকার। গত বুধবারও এই বিশেষ ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে এক দিনে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ সংস্থান করেছে সরকার।

সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের প্রভাব

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে না পেরে ব্যয়নির্বাহের জন্য ক্রমাগত ঋণের ওপর নির্ভর করা ছাড়া সরকারের সামনে এখন বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। তবে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের এই মাত্রাতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এর ফলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির (ইנফ্লেশন) ওপর সরাসরি আঘাত আসতে পারে, যার খেসারত শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বর্তমান সংকট বিশ্লেষণ করে বলেন, “এখন পর্যন্ত সরকারের ত্রৈমাসিক রাজস্ব আদায়সহ যেসকল আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তার একটিও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বাধ্যতামূলকভাবে সরকার ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। আর কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও নতুন পে-স্কেল কার্যকর করতে হলে এই অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান করাই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।”

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *